ভয়ঙ্কর ঘটনা পটাশপুরে, পাঁচ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করে দেহ পুঁতে দিল পাঁকে, গণপিটুনি যুবককে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মালদার পরে পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর। ফের এক নৃশংস ঘটনার সাক্ষী হল বাংলা।

মালদার গ্রামে বছর আটেকের এক শিশুকন্যাকে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে পনেরোর বছরের এক কিশোরের বিরুদ্ধে। ক্ষোভে ফেটে পড়েছে মালদার ভুতনি গ্রাম। এই ঘটনার পরেই ফের নক্কারজনক ঘটনা ঘটল পটাশপুরের অমরপুর গ্রামে। পাঁচ বছরের একটি মেয়েকে ধর্ষণ করে গলা টিপে খুন করে গ্রামেরই এক যুবক। মৃতদেহ পুঁতে দেয় একটি মজে যাওয়া পুকুরের পাঁকের মধ্যে। দেহ উদ্ধার হতেই চাঞ্চল্য ছড়ায় গ্রামে। শিশুটির পরিবারের লোকজনের অভিযোগের ভিত্তিতে তাদেরই এক প্রতিবেশী যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ।

অভিযুক্তের নাম শুভম ঘটম। বয়স ১৮ বছর। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বাচ্চা মেয়েটিকে কুলের লোভ দেখিয়ে ডেকে নিয়ে যায় শুভম। তার পর থেকেই মেয়েটির খোঁজ মিলছিল না। শনিবার বেলা ১১টা নাগাদ বাচ্চাটা বাড়ির বাইরেই খেলছিল। সেই সময় শুভম তাকে ডেকে নিয়ে যায়। শেষবার ওই যুবকের সঙ্গেই তাকে দেখেন স্থানীয়রা। এর পর থেকে মেয়েটির খোঁজ না মেলায় শোরগোল পড়ে যায় গ্রামে। সারা গ্রাম খুঁজে মেয়েটির হদিশ না মেলায় খবর দেওয়া হয় পুলিশে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রামেরই একটি মজে যাওয়া পুকুর থেকে শিশুকন্যাটির প্রাণহীন দেহ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির সারা শরীরে ক্ষতের দাগ ছিল। গোপনাঙ্গেও আঘাতের চিহ্ন ছিল। ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির ওপর যখন অত্যাচার করা হচ্ছিল তখন সে বাধা দেয় বা কান্নাকাটি করে। তাই মুখ বন্ধ করতে গলা টিপে বাচ্চাটাকে খুন করে শুভম। পরে দেহ পুঁতে দেয় পুকুরের পাঁকে।

এই ঘটনার খবর ছড়াতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে গ্রামবাসী। তারাই জানায় বাচ্চাটিকে নিয়ে শুভমই ফাঁকা মাঠের দিকে গিয়েছিল। তাকে ধরে এনে বেধরক মারধর শুরু হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে শুভমকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। অভিযুক্তের বাবা কমল ঘটম ও মা কৃষ্ণা ঘটমকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জেরা করা চলছে।

ঘটনার বীভৎসতায় উত্তাল হয়ে উঠেছে পটাশপুরের গ্রাম। অভিযুক্ত যুবকের ফাঁসির দাবিতে সোচ্চার গ্রামবাসীরা। মৃত শিশুকন্যার মা বলেছেন, “আমার মেয়েটাকে ধর্ষণ করে গলা টিপে খুন করেছে। ওই ছেলে, তার মা-বাবা সবার ফাঁসি চাই।”

পটাশপুর থানার ওসি দীপক চক্রবর্তী বলেছেন, ওই যুবককে নগ্ন করে গণপিটুনি দেওয়া হচ্ছিল। পুলিশ উদ্ধার করে এনে জেরা করছে। যুবকের মা-বাবাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More