ডাক্তারদের রাখতে হবে হোটেল-গেস্ট হাউসে, দিল্লি-উত্তরপ্রদেশের পর নির্দেশ বাংলাতেও 

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিন-রাত এক করে যে চিকিৎসকরা পরিশ্রম করছেন তাঁদের হোটেল, গেস্ট হাউসে রাখার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার নবান্ন সভাঘর থেকে রাজ্যের সমস্ত জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার ও পুলিশ কমিশনারদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক করেন মমতা। সেখানেই জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন, “ডাক্তারদের কিন্তু ভাল হোটেল বা গেস্ট হাউসে রাখার ব্যবস্থা করুন। দেখবেন ওঁদের যেন কোনও অসুবিধা না হয়। ওঁরা যা কাজ করছেন আমার কৃতজ্ঞতা জানানোর কোনও ভাষা নেই।
জেলাশাসক ও স্বাস্থ্য অধিকর্তাদের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “টাকাপয়সার ব্যাপারে কোনও কার্পণ্য করবেন না। ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের যা লাগে তাই দিন।”
দেশের প্রায় সব হাসপাতালেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে চিকিৎসকদের ২৪ ঘণ্টা ডিউটি করতে হচ্ছে। তারপর তাঁদের যাতে আর বাড়ি ফেরার ধকল না নিতে হয় সেকারণে এদিন সকালেই দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল চিকিৎসকদের পাঁচতারা হোটেলে রাখবে। সেরকম না হলেও একই পথে হাঁটল বাংলাও।
রাজধানী শহরের দুটি বিখ্যাত হাসপাতাল লোকনায়ক হাসপাতাল এবং জিবি পন্থ হাসপাতাল। দিল্লির এই দুই হাসপাতালে যেসমস্ত চিকিৎসকরা ডিউটিতে রয়েছেন তাঁদের হোটেলে ললিত-এ থাকার ব্যবস্থা করেছে অরবিন্দ কেজরিওয়াল সরকার। এই পাঁচতারা হোটেলের সমস্ত খরচ দেবে দিল্লি সরকার। এই হোটেলে ১০০টি রুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথের সরকারও চিকিৎসক-নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকার ব্যবস্থা করেছে লখনউ শহরের চারটি পাঁচতারা হোটেলে। হায়াত রিজেন্সি, লেমন ট্রি, দ্য পিকাডেলি এবং ম্যারিয়টের ফায়ারফিল্ড—-এই চারটি পাঁচতারা হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে তাঁদের।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী মেডিক্যাল কলেজগুলির সুপারদের পইপই করে বোঝান, “দেখবেন, ডাক্তার-নার্সদের পেট যেন খালি না থাকে। সময়ে সময়ে তাঁরা যেন খাবার পান। মাথায় রাখবেন, পেট খালি থাকলে কিন্তু জীবাণু আগে অ্যাটাক করে।” উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের সুপারের থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানতে চান ব্রেকফাস্টে কী খেতে দেওয়া হচ্ছে? তিনি জানান, রুটি-সবজি-মিষ্টি। এই শুনেই মুখ্যমন্ত্রী খানিকটা চটে যান। বলেন, “ডিম সেদ্ধ নেই কেন? সব হাসপাতালে ডিম সেদ্ধ কম্পালসারি করে দিন। ওতে প্রোটিন থাকে।”
চিকিৎসকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ– উষ্ণ গরম জলে পাতি লেবুর রস খান। তাঁর কথায়, “করোনাভাইরাস কিন্তু আগে গলায় অ্যাটাক করে। উষ্ণ গরম জলে পাতি লেবুর রস খেলে গলাটা ক্লিয়ার হয়ে যাবে।”
You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More