নবান্নর পরামর্শ, ফের ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু করুক বেসরকারি অফিসগুলো, জ্যামিতিক হারে ছড়াচ্ছে সংক্রমণ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন ব্যাক টু স্কোয়ার ওয়ান!

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ অতিশয় হারে ছড়ানোর কারণে ফের পুরনো বিধিতে ফেরার পরামর্শ দিল নবান্ন। শনিবার সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্য সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নবান্নে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের পর রাতে নতুন অ্যাডভাইজারি প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি যথাসম্ভব যেন ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু করে। কিংবা কর্মচারীদের একাধিক শিফটে বা রোটেশনে কাজ করতে বলে। সপ্তাহে অন্তত এক বার সরকারি ও বেসরকারি অফিস স্যানিটাইজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কী হারে বাড়ছে তা একটি পরিসংখ্যানেই পরিষ্কার। ঠিক এক মাস আগে ১৭ মার্চ বাংলায় কোভিড অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা ছিল ৩ হাজারের সামান্য বেশি। তা বেড়ে ৪৫ হাজার ছাড়িয়েছে। শনিবার স্বাস্থ্য দফতর যে বুলেটিন প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যাচ্ছে শুধু কলকাতাতেই কোভিড অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা ১২ হাজারের বেশি। কলকাতার সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে উত্তর ২৪ পরগনা। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলিতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘন্টায় ৭,৭১৩ জনের শরীরে কোভিড পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে।

এদিন নবান্নের তরফে যে সব পরামর্শ দেওয়া হয়েছে তা হল—
পাবলিক প্লেসে বা গণ পরিবহণে বাধ্যতামূলক ভাবে মাস্ক পরতে হবে। সেই সঙ্গে যথাযথ ভাবে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে।

সমস্ত বাজার ও সুপার মার্কেট স্যানিটাইজ করতে হবে। এ ব্যাপারে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলিকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
সরকারি দফতরে ৫০ শতাংশের বেশি কর্মচারী উপস্থিত থাকতে পারবে না। রোটেশনের ভিত্তিতে কর্মদিন ভাগ করে নিতে হবে।

সমস্ত রেস্তোরাঁ, মল, সুপার মার্কেটে থার্মাল স্ক্যানিং, হ্যান্ড স্যানিটাইজেশন বাধ্যতামূলক ভাবে করতে হবে।

স্যুইমিং পুল, স্টেডিয়াম, সভাঘরগুলিকে কোভিড প্রটোকল মেনে চলতে হবে।
বস্তুত এদিন নবান্নের তরফে অ্যাডভাইজারি প্রকাশের আগেই দেখা যায়, রাস্তায়, বাজার ও শপিং মলগুলিতে ভিড় বেশ পাতলা।

ট্রেনে বাসে লোকও কম। নতুন করে সংক্রমণ বাডৃার কারণে একাংশ মানুষের মধ্যে ভীতি ও সতর্কতা বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে প্রশাসনের কর্তাদের মতে, অনেকে এখনও সচেতন নন, বিষয়টি হাল্কা ভাবে নিচ্ছেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এ ক্ষেত্রে শুধু ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য সতর্ক থাকা বা সচেতন থাকা জরুরি নয়, প্রত্যেকের নিজের পরিবার-পরিজনের সুরক্ষার জন্যও সতর্ক থাকতে হবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More