হাইকোর্টে ফের মুখ পুড়ল সরকারের, আনিসুরের বিরুদ্ধে খুনের মামলা প্রত্যাহার করা যাবে না

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূল নেতা কুরবান শাহ খুনের মামলায় পাঁশকুড়ার আনিসুর রহমানকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। হঠাৎই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করে নেয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। রাজ্যের আবেদনে সাড়া দেয় তমলুক আদালত। কিন্তু তমলুক আদালতের নির্দেশ খারিজ করল হাইকোর্ট। সেই মামলা প্রত্যাহার করা যাবে না বলেই জানাল রাজ্যের শীর্ষ আদালত।

সম্প্রতি হঠাৎ আনিসুরের বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহার করে নেয় রাজ্য সরকার। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তমলুক আদালত রাজ্যের আবেদনে সাড়া দিয়ে মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। তারপরেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন কুরবান শাহের ভাগ্নে জহর শাহ ও তাঁর আইনজীবী। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই এদিন নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যের এজলাসে জহর শাহের আইনজীবী জানান, এইরকম একটা ঘৃণ্য কাজ যিনি করেছেন তাঁর বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করলে আইন ব্যবস্থার উপর সবাই আস্থা হারাবেন। তাই হাইকোর্টের উচিত এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা। তারপরেই মামলা প্রত্যাহার করার নির্দেশ খারিজ করেন বিচারপতি।

এদিন হাইকোর্টের তরফে পর্যবেক্ষণে জানানো হয়, যে আনিসুরের জামিনের বিরুদ্ধে আবেদন করেছিল রাজ্য, সেই আনিসুরের বিরুদ্ধে হঠাৎ কেন মামলা প্রত্যাহার করতে চাইছে সরকার? আদালত জানিয়েছে, রাজ্য চাইলে কারও বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করতেই পারে। কিন্তু তার একটা নির্দিষ্ট কারণ থাকতে হবে। এখানে সরকারের আবেদনের কোনও স্পষ্ট কারণ দেখা যাচ্ছে না। সরকারি আইনজীবী যেন ডাকবাক্সের মতো একবার এদিক, একবার ওদিক না যান, সেদিকে খেয়াল রাখার কথাও বলেছে হাইকোর্ট।

এদিকে তমলুক আদালতের নির্দেশের পরেই তমলুক জেলা হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে যান আনিসুর। রীতিমতো মালা পরিয়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান তাঁর অনুগামীরা। তিনি পাশকুঁড়ার দিকে গিয়েছেন বলে খবর। এদিন হাইকোর্ট জানিয়েছে, ইতিমধ্যে আনিসুরকে ছেড়ে দেওয়া হলে ফের তাঁকে গ্রেফতার করতে হবে।

উনিশ সালে দুর্গাপুজোয় নবমীর রাতে খুন হয়েছিলেন পাঁশকুড়ার তৃণমূল ব্লক সভাপতি কুরবান শাহ। ওই মামলায় অভিযুক্ত হিসাবে উঠে এসেছিল বিজেপি নেতা আনিসুরের নাম। তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

কিন্তু সেই আনিসুরের প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সহানুভূতিশীল তা এক প্রকার স্পষ্ট হয়ে যায় সম্প্রতি। শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল ছাড়ার পর তেখালিতে সভা করেছিলেন মমতা। সেই সভায় তিনি বলেছিলেন, “আনিসুরকে অত্যাচার করে জেলে রেখে দিয়েছে”। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, ‘আনিসুরের উপর অত্যাচার করে জেলে রেখে দিয়েছে’ বলে মমতা হয়তো শুভেন্দুকেই উদ্দেশ করতে চাইছিলেন।

নন্দীগ্রামে জমি আন্দোলনের সময়ে মমতাকে আনিসুর রহমানের বাইকে চড়তে দেখা গিয়েছিল। তেখালির সভাতেও মমতা বলেছিলেন, ‘সেদিন ওরা কিছুতেই আমাকে নন্দীগ্রামে যেতে দিচ্ছিল না। আমি তখন আমার এক সহকর্মীকেই বলি তোর বাইক বা স্কুটার আছে? পাঁশকুড়ার ছেলে আনিসুর..’

মমতার এই বক্তব্য ও পরে আনিসুরের বিরুদ্ধে রাজ্য মামলা প্রত্যাহার করতে চাওয়ায় অনেকেই বিষয়টি দুয়ে দুয়ে চার করতে চান। জল্পনা শুরু হয়, তবে কি এবার তৃণমূলে যোগ দেবেন আনিসুর। তবে আপাতত সেই জল্পনায় জল ঢেলে দিল হাইকোর্ট। এখন দেখার হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে আনিসুরকে ফের কবে গ্রেফতার করে পুলিশ।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More