বেসরকারি বাস রাস্তায় নামাতে হস্তক্ষেপ করুক হাইকোর্ট, দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা

বুধবার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলা দায়ের হয়। আগামী শুক্রবার মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেসরকারি বাস রাস্তায় না নামার ফলে প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়ছেন হাজার হাজার মানুষ। ভাড়া নিয়ে মালিক সংগঠনগুলির অনড় অবস্থান এবং সরকারের হুঁশিয়ারিতে এক অভূতপূর্ব জটিলতা তৈরি হয়েছে গণ পরিবহণে। এই পরিস্থিতিতে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হল কলকাতা হাইকোর্টে।

বুধবার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলা দায়ের হয়। আগামী শুক্রবার মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মামলাকারী তাঁর আবেদনে বলেছেন, হাইকোর্ট একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গড়ে দিক। সেই কমিটি এই জটিলতা কাটাতে পদক্ষেপ করুক। তা ছাড়া আরও বলা হয়েছে, সরকার ১৫ হাজার টাকা করে তিন মাস অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। বাস মালিকরা তাতে রাজি না হয়ে এই মহামারীর পরিস্থিতিতে সাধারণের মানুষের সঙ্গে অবিচার করছেন। আদালত গোটা বিষয়টি দেখুক এবং যথাযথ পদক্ষেপ নিক।

আনলকের প্রথম পর্ব থেকেই ভাড়া নিয়ে দরকষাকষি চলছে। একাধিকবার পরিবহণ কর্তাদের সঙ্গে বাস মালিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের বৈঠক, রেগুলেটারি কমিটি গঠন হলেও সমাধান সূত্র বেরোয়নি। এর মধ্যেই গত কয়েক দিন আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাড়ে ছ’হাজার বাস ও মিনিবাসকে মাসে ১৫ হাজার টাকা করে তিন মাস অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। কিন্তু তাতেও রাজি হননি বাস মালিকরা। তাঁদের বক্তব্য, এই ভাড়ায় বাস চালালে ক্ষতির পরিমাণ দিনে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। মাসিক ১৫ হাজার টাকায় তা কিছুই হবে না।

মঙ্গলবারের সাংবাদিক বৈঠকে হুঁশিয়ারির সুরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মানুষের সুবিধার কথা ভেবেই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে সরকার। বেসরকারি মাসের মালিকরা সরকারি ভর্তুকির বিনিময়ে বাস না নামালে আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।” মমতা এই ঘোষণা করার সময়ে এ-ও উল্লেখ করেন, “আমরা বাধ্য হয়েই এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, আশা করি আমাদের ভুল বুঝবেন না।”
মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে জানান, যখন ডিজেল পেট্রোল বাড়ছে তখন বাড়াতে হবে তাহলে দাম কমলে ভাড়াও কমাতে হবে।” বারবার পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন মমতা। বলেন, যে যে ভাবে সরকারের সাহায্য করা দরকার পশ্চিমবঙ্গ সরকার সব করেছে। এর পরেও যদি বাস মালিকরা বাস না নামান তাহলে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা আইন কার্যকর করতে বাধ্য হবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More