হাওড়া তৃণমূলে ফের ভাঙন, দিলীপ-মুকুলের হাত ধরে শ্রীকান্ত ঘোষও বিজেপিতে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় ক্ষমতা দখলের পর সচিবালয় থেকে সরিয়ে গঙ্গার পশ্চিম পারে নিয়ে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের আগে সেই হাওড়ায় তৃণমূলে যেন গ্রহণ লেগেছে।

ক’দিন আগেই তৃণমূল ছেড়েছেন জেলা সভাপতি তথা রাজ্যের মন্ত্রী লক্ষ্ণীরতন শুক্ল। বুধবার তৃণমূল ছাড়লেন মধ্য ও দক্ষিণ হাওড়ার তৃণমূল নেতা শ্রীকান্ত ঘোষ। এদিন হাওড়া ময়দানের সভায় দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায়, অর্জুন সিং, সৌমিত্র খাঁদের উপস্থিতিতে বিজেপিতে সামিল হয়েছেন তিনি। তাঁর সঙ্গেই মধ্য ও দক্ষিণ হাওড়ায় কয়েক হাজার তৃণমূল কর্মী এদিন গেরুয়া শিবিরে সামিল হয়েছেন বলে বিজেপির দাবি।

তার আগে বুধবার ডুমুরজলা স্টেডিয়াম থেকে হাওড়া ময়দান পর্যন্ত বর্ণাঢ্য রোড শো হয়। সেই রোড শো-র মূল আয়োজন ছিল শ্রীকান্ত ঘোষের। তার নেতৃত্বে ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। গোটা রাস্তায় ভরে যায় গেরুয়া, পতাকা, ফ্লেক্স, ফেস্টুনে। সেই সঙ্গে বড় বড় সব কাট আউট লাগানো হয় মোড়ে মোড়ে। মধ্য হাওড়ায় যে ছবি গত সাড়ে ৯ বছরে দেখা যায়নি।

এক সময়ে হাওড়া লোকসভার উপ নির্বাচনে মধ্য হাওড়ার নেতাজি সুভাষ রোড ধরে পদযাত্রা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবারের মিছিলকে তার সঙ্গেও তুলনা শুরু হয়েছে। যদি তৃণমূল কর্মীদের দাবি, দিদির পদযাত্রা আড়ে বহরে ছিল এর পাঁচ গুণ।

এক সময়ে কংগ্রেসে ছিলেন শ্রীকান্ত ঘোষ। একবার দক্ষিণ হাওড়ায় কংগ্রেসের প্রার্থীও হয়েছিলেন। পরে ২০০৮ সালে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। তাঁর অসন্তোষ, গত ১২ বছর ধরে দলে থেকে যোগ্য সম্মান পাননি তিনি। মধ্য ও দক্ষিণ হাওড়ায় তৃণমূলের বড় সভা ও অনুষ্ঠানের আয়োজনে বরাবর সব রকম সাহায্য করে গিয়েছেন। তার পরেও বঞ্চিত থেকে গিয়েছেন।

হাওড়ার রাজনীতিতে মোটামুটি ভাবে প্রায় সকলেই জানেন যে প্রাক্তন জেলা সভাপতি অরূপ রায়ের সঙ্গে বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও বনিবনা নেই। পরে লক্ষ্ণীরতন শুক্ল রাজ্য সভাপতি হওয়ার পর বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। লক্ষ্ণী-রাজীবরা ছিলেন এক সঙ্গে। তাঁদের কর্মসূচিতে অরূপ রায়কে দেখা যেত না।

অনেকের মতে, এখন যে ভাবে একের পর এক নেতা তৃণমূল ছাড়ছেন, তাতে অরূপ রায়ের উপর অনাস্থাই প্রকাশ পাচ্ছে। শ্রীকান্ত ঘোষের দল ছাড়াকেও অরূপ রায়ের বিরুদ্ধে অনাস্থা হিসাবেই দেখছেন অনেকে।

হাওড়ার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, অরূপ রায়ের এখন যাঁরা ঘনিষ্ঠ এবং হাওড়া পুরসভায় যাঁরা মেয়র পারিষদ সদস্য ছিলেন, তাঁদের অনেকেই শ্রীকান্ত ঘোষের শিষ্য। কিন্তু সেই হিসাবে শ্রীকান্তর সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানে কোনও পদ প্রাপ্তি হয়নি। ফলে একদিন না একদিন অসন্তোষের জ্বালামুখ খোলারই ছিল। কেননা তার ইঙ্গিত তিন বছর ধরে পাওয়াও যাচ্ছিল। মুকুলবাবু তৃণমূলে থাকাকালীন তাঁর অন্যতম আস্থাভাজন ছিলেন শ্রীকান্ত। মুকুল রায় দল ছাড়ার পর তাঁকে দিয়ে পুজো উদ্বোধন করান হাওড়ার এই তৃণমূল নেতা। তখনই দেওয়াল লিখন পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। আরও বড় কথা হল, শ্রীকান্তদের দেখে অসন্তোষের সংক্রমণ আরও ছড়াতে পারে।

অরূপ রায়ের শিবির অবশ্য এই দলত্যাগকে কোনও গুরুত্ব দিতে চাইছেন না। তাঁদের বক্তব্য, দলের কর্মী, সমর্থকরা দলের সঙ্গেই রয়েছেন। এক জন, দুজন নেতা গেলে কোনও ক্ষতি হবে না।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More