মুকুল রায়কে স্বাগত জানিয়ে আমি খুশি, বিজেপিতে উনি কষ্টেশিষ্টে ছিলেন: অভিষেক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর ধর্মতলায় বিশাল সভা করেছিলেন মুকুল রায়। সেই সভায় মুকুলবাবু অভিযোগ করেছিলেন, বিশ্ববাংলা সংস্থার মালিক আসলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাল্টা মামলা ঠুকেছিলেন অভিষেক।
একুশের বর্ষায় সেই বৈরীতা ধুয়ে মুছে গেল। ভোটে জিতে এবং কেন্দ্রে শাসক দলের সহ সভাপতি পদে থাকলেও মুকুল রায় অনুধাবন করলেন বিজেপি পার্টি তাঁর জন্য নয়। তিনি যে ঘরানার রাজনীতি করেছেন, যে উদার পরিবেশে কাজ করেছেন, সেই পরিবেশ এখানে নেই। অনেকটাই বদ্ধ, রক্ষণশীল ও গোঁড়া হিন্দুদের পার্টি এই দল। আবার তৃণমূলও নিশ্চয়ই মনে করেছেন, চব্বিশের লোকসভা ভোটের আগে মুকুল রায়ের মতো একজন পোড় খাওয়া নেতার দরকার।

শুক্রবার সেই দুয়ে দুয়েই চার হয়েছে। তৃণমূল ভবনের মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় -অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মুকুল রায়-শুভ্রাংশু রায়কে অনেক দিন পর দেখা গিয়েছে এক সঙ্গে। অনেকটা সেই পুরনো পরিবারের মতই। তার পর সন্ধ্যায় দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় টুইট করে বলেছেন, মুকুল রায়কে দলের স্বাগত জানাতে পেরে আমি খুশি। বিজেপিতে তিনি যে কষ্টেশিষ্টে ছিলেন তার জন্য আমাদের সহানুভূতি রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আমরা একটা টিম হিসাবে কাজ করব।

অভিষেক এ কথার বলার আগে এদিন সাংবাদিক বৈঠকে দিদিকে একটি প্রশ্ন করা হয়েছিল। অভিষেক-মুকুল রায়ের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে বলে শোনা যায়। সেটা কী ঠিক? জবাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ওঁদের মধ্যে কোনও মতবিরোধ ছিল না। এ সব বাজে কথা।

একদা তৃণমূলে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মুকুল রায়। সবাই বলতেন, দলে নম্বর টু ব্যক্তি। দিদির পরই দ্বিতীয় ক্ষমতাশালী নেতা। মুকুলবাবুর দল ছাড়ার পর সেই পদ সুব্রত বক্সীকে দেওয়া হয়েছিল ঠিক, কিন্তু তিনি এই পদকে প্রাসঙ্গিক রাখতে পারেননি। এখন সেই পদের দায়িত্ব পেয়েছেন অভিষেক। পর্যবেক্ষকরা অনেকেই মনে করছেন, তিনিই এখন নম্বর টু। সেই সঙ্গে এই কৌতূহলও তৈরি হয়েছে যে মুকুলবাবু কী পদ পাবেন? জবাবে এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, সে ব্যাপারে আমরা এখনও কোনও আলোচনা করিনি। তৃণমূলে আগের মতোই গুরুত্ব থাকবে মুকুলের।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More