মুখ্যসচিব ও ডিজিকে তলব সংবিধান বিরুদ্ধ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবকে চিঠি কল্যাণের

রফিকুল জামাদার

ডায়মন্ডহারবারের শিরাকোলে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডার কনভয়ে হামলার ঘটনা নিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্রকে দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। এই তলবের কয়েক ঘণ্টা পরেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব অজয় ভল্লাকে চিঠি লেখেন মুখ্যসচিব। জানান রাজ্য বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তাহলে দিল্লি যাওয়ার কী দরকার। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এবার তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠি দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবকে। রাজ্যের দুই আধিকারিককে তাঁর তলব সংবিধান বিরুদ্ধ বলেই অভিযোগ করলেন তিনি।

অজয় ভল্লাকে লেখা চিঠিতে কল্যাণ বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রাজ্যের অধীনে। ভারতীয় সংবিধানের আওতায় এই অধিকার রাজ্যের রয়েছে। তাহলে দুই আধিকারিককে ডেকে পাঠানোর কি কোনও অধিকার কেন্দ্রের রয়েছে? কেন্দ্র সংবিধান বিরুদ্ধ কাজ করছে বলেই অভিযোগ তাঁর। রাজনৈতিক চাপে এই ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে গণতন্ত্রের অবমাননা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তৃণমূল সাংসদের।

চিঠিতে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার কনভয় নিয়েও অনেক প্রশ্ন তুলেছেন কল্যাণ। তাঁর অভিযোগ, নাড্ডা জেড জ্যাটেগরির নিরাপত্তা পান। সেইমতো তাঁর সুরক্ষার সব বন্দোবস্ত রাজ্য সরকার করেছিল। ওই রেঞ্জের ডিআইজি নিজে পুরো বিষয়টি তদারক করছিলেন। ডায়মন্ডহারবার যাওয়ার রাস্তায় ৪ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ৮ জন ডেপুটি পুলিশ সুপার, ১৪ জন ইন্সপেক্টর, ৭০ জন সাব ইন্সপেক্টর ও অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর, ৪০ জন র‍্যাফ আধিকারিক, ২৫৯ জন কন্সটেবল ও ৩৫০ সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন করা হয়েছিল।

কল্যাণের অভিযোগ, নাড্ডা তাঁর সঙ্গে করে প্রায় ৩০টি গাড়ি, ৫০টি মোটরবাইক, অজস্র সমর্থকদের নিয়ে গিয়েছিলেন। সেই কনভয় থেকেই তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তৃণমূল সাংসদের।

এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা রাকেশ সিংয়ের নাম ফের একবার তুলে এনেছেন কল্যাণ। গতকাল তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূলের এই আইনজীবী সাংসদ অভিযোগ করেছিলেন রাকেশ সিং কুখ্যাত দুষ্কৃতী। তার নামে ৫৯টি মামলা রয়েছে। উনিশের লোকসভার আগে অমিত শাহের মিছিল চলাকালীন বিদ্যাসাগর কলেজের সামনে বিদ্যাসাগরের মূর্তি এই রাকেশই ভেঙেছিল। এই রকমের এক দুষ্কৃতী নাড্ডার কনভয়ে কী করছিল? সেই একই প্রশ্ন তিনি তুলেছেন স্বরাষ্ট্রসচিবকে লেখা চিঠিতেও।

বিজেপির কনভয় থেকে প্ররোচনার পরে নাড্ডার কনভয়ের অনেকটা পিছনে থাকা একটি গাড়িতে সামান্য ভাঙচুর হয়েছে এবং তার তদন্তও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ। তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই দুটি মামলায় সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাকেশ সিংয়ের বিরুদ্ধে আলাদা করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। রাজ্য প্রশাসন নিজের কাজ করছে বলেই দাবি কল্যাণের।

এই চিঠিতে কল্যাণ আরও অভিযোগ করেছেন, বিজেপি ও অমিত শাহের চাপে রাজনৈতিক দলদাসের মতো আচরণ করছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তাই আইএসএস ও আইপিএস অফিসারদের উপর চাপ দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের অধিকারে নাক গলানো হচ্ছে। এভাবে কাজ না করে গণতন্ত্র মেনে নিজেদের কর্তব্য পালন করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More