ম্যান অব দ্য ম্যাচ কুণালই, গোল লাইন সেভ করে এই কাম ব্যাকও যেন রূপকথার মতোই

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঝ মাঠ সুরক্ষিত রাখতে গিয়ে হয়তো কিছুটা অরক্ষিতই হয়ে পড়েছিল সাইড লাইন। তারই সুযোগে যেন উইং ধরে আক্রমণে উঠে এসেছিল বিজেপি। বক্সেও ঢুকে পড়েছিল বল নিয়ে। খেলা এতটাই টান টান হয়ে উঠেছিল আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়েছিলেন দর্শকরা, কেউ কেউ ঝুঁকে পড়েছিলেন প্রায় মাঠের মধ্যে। সামান্য একটা ফ্লিক, তাতেই বল জড়িয়ে যেতে পারত তৃণমূলের জালে। 

কিন্তু না! গোল লাইন সেভ করে বল ফের মাঝ মাঠে পাঠিয়ে দিলেন তৃণমূলের একদা তরুণ স্ট্রাইকার কুণাল ঘোষ। ইলেভেন সাইড কিংবদন্তী কাম ব্যাককেও যেন ফিকে করে দিল এই অসামান্য কাম ব্যাক।

কুণাল ঘোষ এখন তৃণমূলের অন্যতম মুখপাত্র, টেলিভিশনের টক শোতে প্রাইম স্পিকার, স্টার ক্যাম্পেইনার এবং বললে অতিশয়োক্তি হবে কি—‘ত্রাতাও’। নইলে শুক্রবার থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়ের কথায় ও বার্তায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল, শীঘ্রই গেরুয়া পথযাত্রী হবেন তিনি।

কারও কারও ঈর্ষা হতেই পারে। কারণ, একটা সময়ে তৃণমূলে কুণালের অবস্থান ছিল ঈর্ষা করার মতোই। ২০০৯ সালের নির্বাচন, একুশের ভোট, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন—মাইলফলক সব ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে কুণাল। কখনও সোমেন মিত্রকে কংগ্রেস থেকে এনে ডায়মন্ড হারবারে প্রার্থী করে দিতে অনুঘটক তিনি, কখনও শতাব্দী রায়কে নিয়ে আসছেন তৃণমূলে। কখনও দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে আলোচনা করতে তাঁকে নিয়ে দশ নম্বর জনপথে ঢুকছেন দিদি, একুশের মঞ্চের মাইক তাঁরই হাতে।

তার পর যে দলের রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন, তাদেরই সরকারের হাতে গ্রেফতার হয়ে সাড়ে তিন বছর জেল খেটেছেন, জামিনে মুক্তি পেলেও দলে এক প্রকার অস্পৃশ্য হয়ে পড়ে থেকেছেন রামমোহন রায় রোডের ফ্ল্যাটের কোণে। সেই সঙ্গে সিবিআইয়ের উপুর্যুপুরি জেরা সামলেছেন, প্রাক্তন পুলিশ কমিশনারের চোখে চোখ রেখে শিলংয়ে সওয়াল করেছেন…অনেকে মনে করছিলেন প্রায় হারিয়েই যাচ্ছেন কুণাল।

চিটফান্ড কাণ্ডে কুণাল যখন জেলে বন্দি সেই সময়ে তাঁর এক বন্ধুই বলতেন, ওঁর সারভাইভাল ইনস্টিংঙ্কট মারাত্মক। ফিরে আসবেই।

সেদিক থেকে বলতে গেলে বরফ প্রথম গলতে শুরু করে আঠারো সাল নাগাদ। সংসদে তখন কুণালের রাজ্যসভার সদস্যপদের মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখে। দিল্লিতে গেলেই একবার অন্তত সংসদ ভবনে যান মমতা। সেদিন সংসদে তৃণমূলের কক্ষে গিয়ে বসেছেন। দলের বেশ কয়েকজন সাংসদ ও সাংবাদিকরা তাঁকে ঘিরে বসে আছেন। এমন সময়েই সেখানে ঢুকে পড়েন কুণাল। দিদি বলেন, কুণাল ভাল আছো?

সেই শুরু। জানা যায় তার পর শুভেন্দু অধিকারীকে ডেকে দিদি বলেছিলেন, ওকে কাজে লাগাতে হবে। পরে অবশ্য সেই দায়িত্ব পার্থ চট্টোপাধ্যায়কেই দেন নেত্রী। তার পর একদিন কালীঘাটে দিদির সঙ্গে দেখা করা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে গিয়ে তাঁর সঙ্গে ঘন্টা খানেক বৈঠক। ক্রমে সেই কুণাল ফের যেন তাঁর পুরনো অবতারে।

তৃণমূলে এখন কৌতূহলের বিষয়, কুণাল কি এ বারের নির্বাচনে প্রার্থী হবেন, নাকি ভোটে তৃণমূল জিততে পারলে ভবিষ্যতে তাঁর রাজ্যসভার আসন ফের পাকা! সেই জল্পনার ও কৌতূহল নিয়ে কুণালকেই প্রশ্ন করা হয়েছিল। জবাবে তিনি বলেন, “ওই সব ভাবনা আমার মধ্যে কাজ করছে না। স্বর্গ নরক দুটোই আমি দেখে এসেছি”।আর এই যে গোল লাইন সেভ করলেন? লোকে বলছেন, শতাব্দীর সেরা কাপ জিতে ম্যান অব দ্য ম্যাচ আপনিই। কুণাল বললেন, “শতাব্দী তো আমার বহুদিনের বন্ধু। আমাদের ছেড়ে যাওয়ার কথাও তো ছিল না। ছোটখাটো ঠোকাঠুকি ছিল, মিটে গেছে। এখন আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছি, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করব”।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More