বেলাগাম করোনা, রাজ্যজুড়েই সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে কোভিড বেডের আকাল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা দুরন্ত গতিতে বেড়ে চলেছে রাজ্যে। কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনার করোনা পরিস্থিতি রীতিমতো দুর্বিষহ। আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। সেই সঙ্গে কোভিড শয্যারও আকাল দেখা দিয়েছে রাজ্যের অনেক সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালেই। কলকাতার একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে কোভিড বেড প্রায় নেই বললেই চলে। কোথাও ১টি আবার কোথাও মাত্র ২টিতে গিয়ে ঠেকেছে। উদ্বেগ বেড়েছে স্বাস্থ্য দফতরের।

শহরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের কর্তৃপক্ষরা বলছেন, দু’মাস আগেও ছবিটা অন্যরকম ছিল। করোনায় ভর্তির সংখ্যা প্রায় শূন্যে গিয়ে ঠেকেছিল। মনে করা হয়েছিল, করোনা বিদায়ই নিয়েছে। টিকাকরণ শুরু হওয়ার পর লোকজন সম্ভবত খানিকটা নিশ্চিন্তও হতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু এখন পুরো ছবিটাই বদলে গেছে। কলকাতা ও লাগোয়া এলাকা করোনা হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। সংক্রামিতের সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালে ভর্তিও রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। সেই সঙ্গেই কোভিড বেডের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে হাসপাতালগুলিতে।

পরিস্থিতির বিচারে শুধুমাত্র করোনার চিকিৎসার জন্যই ৪৪টি সরকারি হাসপাতাল এবং ১৬টি বেসরকারি হাসপাতালকে তৈরি রাখা হয়েছিল। ওই হাসপাতালগুলিতে ৬,৭৩৬টি বেড রখা হয়েছিল কোভিড রোগীদের জন্য। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য আলাদাভাবে ১,৫০০-এ বেশি শয্যার ব্যবস্থাও ছিল। এখন দেখা যাচ্ছে, সরকারি ও বেসরকারি কযেকটি হাসপাতালে খালি কোভিড বেডের সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছে। এমআর বাঙুর হাসপাতালে এখন খালি শয্যা ২২৩টি (৭১৩), সল্ট লেক আমরির ১০টি কোভিড বেডের মধ্যে একটিও খালি নেই। আরজিকর-এ ৬০টি বেডের মধ্যে এখন খালি রয়েছে মাত্র ৩১টি। এনআরএস মেডিক্যালে ১১০টি বেডের মধ্যে খালি ৪৫টি।

অন্যান্য জেলাগুলিতেও একই দশা। হাওড়ার সত্যবালা ও ইএসআই দুটি হাসপাতালেই খালি বেড প্রায় নেই বললেই চলে। দুই ২৪ পরগনা, বর্ধমান, উত্তর দিনাজপুর সব জায়গাতেই ছবিটা এক।

কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালগুলিরও একই দশা। ঢাকুরিয়া আমরিতে এখন ১০৮টি কোভিড বেডের মধ্যে খালি মাত্র ২৩টি, মুকুন্দপুর আমরিতে কোনও বেডই খালি নেই। করোনায় আক্রান্ত হয়ে রোগী ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে। বেলভিউ ক্লিনিকে এখন ৮টি কোভিড বেড খালি রয়েছে, সিএমআরআই-তে ২০টি,  বিপি পোদ্দারের ৭১টির মধ্যে মাত্র ২৪টি বেড খালি রয়েছে।

রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাসপাতাল-নার্সিংহোমগুলিকে তাই বাড়তি ব্যবস্থা নিতে বলেছে রাজ্য প্রশাসন। মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় দুদিন আগেই জেলা প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে নবান্নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। মুখ্যসচিব বলেন, গত বছর হাসপাতালগুলি কোভিড শয্যা, অক্সিজেনের যোগান, অ্যাম্বুল্যান্স ইত্যাদি ক্ষেত্রে যে ব্যবস্থা করেছিল, এ বছর তার থেকেও ২০ শতাংশ বেশি বন্দোবস্ত রাখতে হবে। হাসপাতালগুলিতে কোভিড বেড বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More