নবান্ন অভিযানে নিখোঁজ বাম কর্মী দীপক পাঁজাকে পাওয়া গেল বালি থেকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২২ দিন পরে খোঁজ মিলল নবান্ন অভিযানে গিয়ে নিখোঁজ বাম কর্মী দীপক পাঁজার। বালি স্টেশন থেকে উদ্ধার করা হয় পাঁশকুড়ার বাসিন্দা দীপককে। তাঁকে রাখা হয়েছে হাওড়া জেলা সিপিএম পার্টি অফিসে। শিগগির তাঁকে বাড়ির লোকের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে বাম ছাত্র-যুব নেতৃত্বের তরফে।

জানা গিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় বালি স্টেশনে ভবঘুরের মতো ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় দীপককে। এই ক’দিনে তাঁর চেহারায় অনেক বদল হয়েছে। ধকলের ছাপ স্পষ্ট। কিন্তু তারপরেও স্টেশন সংলগ্ন একটি দোকানের মালিক তথা বাম কর্মী তাঁকে দেখতে পেয়ে চিনতে পারেন। তিনি খবর দেন বাকিদের। তারপরেই স্থানীয় বাম কর্মীরা গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন।

শুক্রবার রাতে বাম ছাত্র-যুবর তরফে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে জানানো হয়, দীপককে হাওড়া জেলা সিপিএম পার্টি অফিসে রাখা হয়েছে। তাঁর বাড়ির লোককে খবর দেওয়া হয়েছে। দীপকের কোনও শারীরিক ও মানসিক সমস্যা হয়েছে কিনা তা জানার জন্য ডাক্তার দেখানো হয়েছে। সব কিছু মিটে গেলেই তাঁকে পরিবারের লোকের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

২২ দিনের চিন্তার শেষে দীপককে খুঁজে পাওয়ায় স্বভাবতই স্বস্তিতে বাম কর্মী ও নেতারা। যদিও এই খোঁজ পাওয়ায় পুলিশের কোনও কৃতিত্ব নেই বলেই অভিযোগ তাঁদের। বারবার পুলিশের কাছে আবেদন ও বাধ্য হয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পরেও পুলিশ কোনও সাহায্য করেনি বলেই দাবি তাঁদের।

শনিবার সকালেই দীপকের বাড়ির লোকেরা হাওড়া জেলা সিপিএম পার্টি অফিসে পৌঁছন। তাঁকে এই মুহূর্তে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেই জানা গিয়েছে।

দীপক নিখোঁজ হওয়ার পরে তাঁর পরিবার জানায়, নবান্ন অভিযানে অংশ নেওয়ার জন্য দলের কর্মীদের সঙ্গে রওনা হয়েছিলেন কলকাতার দিকে। তারপর বাড়ি ফেরেননি আর। কোনও যোগাযোগ হয়নি। ফলে কলকাতার নিউমার্কেট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তাঁর পরিবার। জানানো হয় লালবাজারেও। তারপরেও খোঁজ না মেলায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন পরিবার ও বাম নেতৃত্ব। রাজ্য সরকার ও পুলিশের বিরুদ্ধে খুন করে দেহ লোপাটের অভিযোগ পর্যন্ত করা হয়। প্রথম দফার শুনানিতে হাইকোর্টের তরফে পুলিশকে দু’সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অবশেষে ২২ দিন পরে খোঁজ পাওয়া গেল দীপকের।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More