শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৬

‘খুনিরা শাস্তি পাবে’, কৃষ্ণগঞ্জের নিহত বিধায়কের স্ত্রীকে ফোন মমতার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনের পর থেকেই রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। রবিবার সকালেই হাঁসখালিতে এসে পৌঁছেছেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এসেছেন বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলও। এ বার নিহত বিধায়কের স্ত্রীকে ফোন করে পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রবিবার মুখ্যমন্ত্রী ফোন করেন নিহত সত্যজিৎবাবুর স্ত্রীকে। ফোন করে তিনি বলেন, এই হত্যার পিছনে ষড়যন্ত্রকারী ও খুনি যারা রয়েছে, তারা শাস্তি পাবে। দল নিহত বিধায়কের পরিবারের পাশে রয়েছে। তাঁরা যেন কখনওই নিজেদের অসহায় না ভাবেন। দল পরিবারের দায়িত্ব নেবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এর আগে সকালে হাঁসখালিতে গিয়ে পৌঁছন বীরভূমের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। তিনি গিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত দলীয় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। সাংবাদিকদের সামনে কেষ্ট মণ্ডল বলেন, “এই খুন কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। যারা এই ঘটনার পেছনে রয়েছে, তারা ছাড় পাবে না। উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে দোষীদের।”

রবিবার এলাকায় যান শিক্ষামন্ত্রী তথা তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি নিহত বিধায়কের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের সমবেদনা জানান। সত্যজিৎ বিশ্বাসের বাড়ি থেকে বেরিয়ে পার্থবাবু সাংবাদিকদের বলেন, “বিজেপি দুষ্কৃতীরা এই খুন করেছে। এলাকায় খুব জনপ্রিয় নেতা ছিলেন সত্যজিৎ। আর তাই রাজনৈতিক হিংসা চরিতার্থ করতেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। শোক পালনের জন্য নদিয়া জেলার সব জায়গায় দলীয় পতাকা অর্ধনমিত করে রাখা হয়েছে।”

শনিবার সন্ধেবেলা হাঁসখালি ব্লকের বগুলার ফুলবাড়ি এলাকায় একটি সরস্বতী পুজোর উদ্বোধন করতে গিয়ে আততায়ীর গুলিতে খুন হন তৃণমূল বিধায়ক তথা মতুয়া নেতা সত্যজিৎ বিশ্বাস। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি। বাজেয়াপ্ত করা আগ্নেয়াস্ত্রর ব্যালেস্টিক পরীক্ষা করে দেখবেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা।

এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে সুজিত মণ্ডল ও কার্তিক মণ্ডল নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মুকুল রায় সহ চারজনের নামে থানায় এফআইআরও করা হয়েছে। খুনের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার জন্য হাঁসখালি থানার অফিসার ইন-চার্জ অনিন্দ্য বসুকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সাসপেন্ড করা হয়েছে সত্যজিৎবাবুর দেহরক্ষী প্রভাস মণ্ডলকেও। তাঁর বিরুদ্ধে বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় এই মতুয়া নেতার খুনের পর নদিয়া জেলা তৃণমূল সভাপতি গৌরীশঙ্কর দত্ত সরাসরি আঙুল তুলেছেন মুকুল রায়ের দিকে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও বলেছেন, দলের কিছু গদ্দারই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। অন্যদিকে মুকুল রায় ও বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ আঙুল তুলেছে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের দিকে। সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

আরও পড়ুন

তৃণমূল বিধায়ক খুনে এফআইআর মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে, গ্রেফতার ২, পরিকল্পনা করেই খুন, সন্দেহ পুলিশের

Shares

Comments are closed.