প্রোটোকল মেনে করোনায় মৃতের অন্ত্যেষ্টি করা যাবে সংশ্লিষ্ট এলাকাতেই, সৎকার-জট কাটাতে নয়া নির্দেশিকা

রফিকুল জামাদার

করোনায় মৃত রোগীর সৎকার করা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠছে। বাড়িতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়ে থাকছে কোভিড রোগীর দেহ, কোথাও আবার দেহ সৎকার করা নিয়ে নানা আপত্তি উঠছে। কোভিডে মৃতের অন্ত্যেষ্টি যাতে প্রোটোকল মেনে ও মর্যাদার সঙ্গে করা যায়, তার জন্য ফের সংশোধিত নিয়মবিধি জারি করা হল প্রশাসনের তরফে।

নয়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, করোনায় মৃত রোগীর দেহ সৎকারের ব্যবস্থা করা যাবে সেই এলাকারই নির্দিষ্ট শ্মশান বা কবরস্থানে। সংশ্লিষ্ট এলাকার নোডাল অফিসারের সঙ্গে কথা বলেই দেহ সৎকারের ব্যবস্থা করতে হবে। মৃতদেহ নিয়ে বহুদূরে যাওয়ার দরকার পড়বে না রোগীর পরিজনদের। সেক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের তরফে যদি আপত্তি ওঠে তাহলে সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বে থাকা নোডাল অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, যদি নিজের বাড়ি বা এলাকা থেকে দূরে কোথাও মৃত্যু হয় কোভিড রোগীর, তাহলে দেহ বাড়িতে না নিয়ে গিয়ে সরাসরি সেই এলাকারই শ্মশান বা কবরস্থানে সৎকারের ব্যবস্থা করা যাবে।

করোনায় মৃত রোগীর সৎকারের নিয়ম সম্পর্কিত নির্দেশিকায় আগেই বলা হয়েছিল, মৃ্ত্যুর ৩ ঘণ্টার মধ্যেই করোনা রোগীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। পরিষেবার অভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়ে থাকবে না দেহ। মৃত করোনা রোগীদের দ্রুত সৎকার নিশ্চিত করতে ৪৬৬ জন নোডাল অফিসারও নিয়োগ করা হয়েছে। নবান্ন সূত্রে বলা হয়েছিল, কলকাতা এবং সংশ্লিষ্ট শহরাঞ্চলের জন্য ১২৪ জন নোডাল অফিসার এবং গ্রামীণ এলাকাগুলির জন্য ৩৪২ জন নোডাল অফিসার থাকবেন। এখন থেকে করোনা রোগীদের মৃতদেহ সৎকারের দায়িত্ব নেবেন এই নোডাল অফিসাররাই।

হাসপাতালে হোক বা বাড়িতে, করোনা সংক্রমণে কোনও রোগীর মৃত্যু হলে তা আগে নোডাল অফিসারকে জানাতে হবে। তিনিই দায়িত্ব নিয়ে মৃতদেহ বহনের ব্যবস্থা করা থেকে অন্ত্যেষ্টির সব দায়িত্বই নেবেন। নয়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যে এলাকায় রোগীর মৃত্যু হচ্ছে সেখানেই দেহ সৎকারের ব্যবস্থা করা যাবে। কোভিড প্রোটোকল মেনেই অন্ত্যেষ্টি করতে হবে। সংশ্লিষ্ট শ্মশান বা কবরস্থানে যদি অত্যধিক মৃতদেহের চাপ থাকে, তা হলে কোথায় সৎকার-পর্ব অনুষ্ঠিত হবে, সে ব্যাপারে নোডাল অফিসারের সঙ্গে কথা বলতে হবে। তাছাড়া অনেক সময়ে দেখা যাচ্ছে, মরণাপন্ন কোভিড রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরেই মৃত্যু হচ্ছে। সেক্ষেত্রে রোগীর র‍্যাপিড টেস্ট করিয়ে কোভিডেই মৃত্যু কিনা সেটা নিশ্চিত করতে হবে। তারপর দেহ সৎকারের জন্য নোডাল অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে। নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, যদি এমন নয় যে বাড়িতে যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা মৃতদেহ পড়ে আছে, কোভিড রিপোর্ট তখনও মেলেনি, তাহলেও নির্দিষ্ট কোভিড প্রোটোকল মেনে দেহ সৎকারের ব্যবস্থা করা যাবে।

গত বছরও করোনায় মৃতের দেহ সৎকার নিয়ে একাধিক বিধি মেনে চলার কথা বলেছিল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। সেইসব নিয়মই চালু থাকবে। যেমন, শেষকৃত্যে রোগীর পরিজন হাজির থাকতে পারবেন। তবে সেই সংখ্যা ৬ জনের বেশি হবে না। সরকারই তাঁদের পিপিই কিট এবং মাস্কের খরচ বহন করবে। যে শববাহী গাড়িতে মৃতদেহ বহন করা হবে সেটি পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুনাশের ব্যবস্থা করতে হবে।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More