গলসিতে জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনায় মৃত্যু মায়ের, গুরুতর জখম ছেলে

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: মাকে বাইকে চাপিয়ে অসুস্থ আত্মীয়াকে দেখতে যাচ্ছিলেন ছেলে। কিন্তু যাওয়ার সময় মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল মায়ের। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ছেলে। শনিবার দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ২ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর। এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।

পূর্ব বর্ধমানের গলসির পুরসা এলাকায় ঘটেছে এই দুর্ঘটনা। মৃতার নাম আজমিরা বেগম। তাঁর বয়স ৫০ বছর। ছেলের নাম শেখ রাজীব। গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, আজমিরা ও রাজীবের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম থানার এড়াল গ্রামে। অসুস্থ আত্মীয়কে দেখতে একটি বাইকে চড়ে মা ও ছেলে এদিন সকালে বাড়ি থেকে বের হন। তাঁরা গলসির পুরসা যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী শেখ লালন বলেন, ২ নম্বর জাতীয় সড়কে গলসির পুরসার মাঝেরপুল ক্রসিংয়ের কাছে আচমকা পিছন থেকে একটি চারচাকা তাঁদের সজোরে ধাক্কা মারে। দুর্ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় আজমিরা বেগমের। গুরুতর জখম হয়ে রাস্তার উপরে পড়ে ছিলেন শেখ রাজীব। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ ও স্থানীয় মানুষরা রাজীবকে উদ্ধার করে বর্ধমান হাসপাতালে নিয়ে যায়। গুরুতর জখম অবস্থায় সেখানে ভর্তি তিনি।

জানা গিয়েছে, মৃত আজমিরা বেগমের দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে তারা।

দুর্ঘটনার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে এলাকাবাসী। তাঁদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাতীয় সড়কের পাশে লাইন দিয়ে লরি ও ট্রাক দাঁড় করিয়ে রেখে অন্যত্র চলে যায় চালকরা। রাস্তার পাশে এই ভাবে ট্রাক ও লরি দাঁড়িয়ে থাকার জন্য প্রায় প্রতিদিনই গলসিতে দুর্ঘটনা ঘটছে। বেপরোয়া যান যলাচল নিয়ন্ত্রণে পুরসা ক্রসিংয়ে ব্যারিকেডের ব্যবস্থা করার দাবিও এদিন পুলিশকে জানান গ্রামবাসীরা। এদিনের দুর্ঘটনার পর গ্রামবাসীরা মাইকিং করে জাতীয় সড়কের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাক ও লরি সরানোর আবেদন জানান। ওই সব গাড়ি সরাতে এরপর পুলিশও কড়া ভূমিকায় পথে নামে।

জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার পরে জাতীয় সড়কের পুরসা ক্রসিংয়ে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের দাবিতে এলাকার বাসিন্দারা পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তার জেরে জাতীয় সড়কে যানবাহন চলাচল থমকে যায়। পুলিশ যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিলে আধ ঘন্টা বাদে অবরোধ ওঠে।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More