মমতার উদ্দেশে কৈলাস, মুকুল, দিলীপ, শুভেন্দুদের জোটবদ্ধ টুইট,‘নন্দীগ্রামেই দাঁড়াতে হবে’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথমে ধুয়োটা তুলেছিলেন নন্দীগ্রামের সদ্য প্রাক্তন বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীই। তেখালির মাঠে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেদিন ঘোষণা করেছিলেন, এ বার নন্দীগ্রামে তৃণমূলের প্রার্থী তিনিই, সেদিনই বিকেলে দক্ষিণ কলকাতার সভা থেকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন শুভেন্দু। বলেছিলেন, হাফ লাখ ভোটে হারাব। সেই সঙ্গে বিজেপিতে নবাগত নেতা বলেছিলেন, শুধু নন্দীগ্রামেই দাঁড়াতে হবে।

কিন্তু এ বার সেই চ্যালেঞ্জকেই বিজেপি নেতারা সমষ্টিগত প্রচারে পরিণত করলেন। শনিবাসরীয় বিকেলে কৈলাস বিজয়বর্গীয়, মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষ, শুভেন্দু অধিকারী, বাবুল সুপ্রিয়, দেবশ্রী চৌধুরী, অর্জুন সিং সহ বিজেপি নেতারা একই টুইট করেন। অর্থাৎ টুইটের ভাষা একই। শুধু অমিত মালব্য ইংরেজিতে আর কৈলাস হিন্দিতে টুইট করেছেন। তাতে তাঁরা লিখেছেন, “নন্দীগ্রাম থেকে নিজেকে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কেন্দ্রে যদি তিনি নিজের জয় সম্পর্কে নিশ্চিত থাকেন, তাহলে ঘোষণা করুন, শুধুমাত্র নন্দীগ্রাম থেকেই তিনি প্রার্থী হবেন। নাহলে হারের ভয়ে অন্য কেন্দ্র থেকেও তিনি প্রার্থী হতে পারেন”।

বস্তুত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তেখালির সভায় ওই ঘোষণা করার পর থেকেই তৃণমূলের কেউ কেউ একটা কথা চারিয়ে দিয়ে চাইছেন। তা হল—নন্দীগ্রামে শুভেন্দু ভয়ে আর প্রার্থী হবেন না। আবার শুভেন্দু বলছেন, বিজেপি সঙ্ঘবদ্ধ দল। স্বৈরাচারী ব্যবস্থা সেখানে নেই। কেউ খেয়ালখুশি মতো প্রার্থী ঘোষণা করতে পারে না। তবে হ্যাঁ দল আমাকে প্রার্থী করুক আর যাঁকেই প্রার্থী করুক, হাফ লাখ ভোটে হারাব।

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, বিজেপি কি চাইছে না যে মমতা নন্দীগ্রামে প্রার্থী হোক? তাঁরা কি মনে করছেন, যে তাঁদের এই সমষ্টিগত প্রচারের ধাক্কায় মমতা আর নন্দীগ্রামে প্রার্থী হবেন না?

জবাবে এদিন কৈলাস বলেছেন, “আমরা সে কথা বলছিই না। আমাদের বক্তব্য, উনি নন্দীগ্রামেই প্রার্থী হোন। অন্য কোনও আসনে যেন না লড়েন। না হলে নন্দীগ্রামের মানুষ মনে করবে তাদের উপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভরসাই নেই।”

অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন শুধু নন্দীগ্রামেই প্রার্থী সেই চাপটাই তৈরি করতে চাইছে বিজেপি। দলের এক মুখপাত্রের কথায়, উনি নিজেই বলেন, ২৯৪ টি আসনে উনিই প্রার্থী। সব ব্লকের উনিই পর্যবেক্ষক। তা হলে দুটো আসনে লড়ার তো কোনও প্রাসঙ্গিকতা থাকে না। তা ছাড়া কাঁথির সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এও বলেছেন যে, এ বার মুখ্যমন্ত্রী মেদিনীপুর থেকেই হবেন। তাই যদি হয়, তা হলে শুধু নন্দীগ্রামেই লড়ুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মেদিনীপুরের বাইরে অন্য কোনও আসন থেকে লড়লে তো সেই এক্সক্লুসিভিটি আর থাকবে না।

প্রসঙ্গত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তেখালিতে এও বলেছিলেন যে নন্দীগ্রামের পাশাপাশি তিনি ভবানীপুরেও প্রার্থী হতে পারেন। তাঁর কথায়, ভবানীপুর আমার কাছে বড় বোন, আর নন্দীগ্রাম হলে মেজ বোন।

মমতার সেই কথা নিয়েও কটাক্ষ করেছিলেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, এর পর রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডোমজুড়কে মাননীয়া বলবেন সেজ বোন। উত্তরপাড়ার বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। সুতরাং বলবেন, উত্তরপাড়া আমার ছোট বোন। কিন্তু ওনাকে শুধু নন্দীগ্রামেই লড়ে দেখাতে হবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More