মমতাকে রাজ্যপালের জবাবী চিঠি, শীতলকুচি যাওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন ধনকড়

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ বৃহস্পতিবার শীতলকুচি পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের। তার আগে বুধবার রাত থেকেই পত্রযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যপাল ধনকড়ের মধ্যে। মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছিলেন, রাজ্যপালের এই সফর সমস্ত সরকারি প্রোটোকল মেনেই হচ্ছে কিনা। তার জবাবে রাতেই একটি চিঠি দেন ধনকড়। আজ সকালে সেই চিঠিই ফের টুইটারে পোস্ট করে রাজ্যপাল বলেছেন, সাংবিধানিক বিধি মেনেই শীতলখুচি-সহ কোচবিহারের বিভিন্ন এলাকা সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছেন, ‘এই পরিস্থিতিতে সবার একজোট হয়ে কাজ করা উচিত।’

রাজ্যপাল তাঁর চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীকে লিখেছেন, “আমি ও আপনি দু’জনেই সাংবিধানিক দায়িত্বপ্রাপ্ত। শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংবিধান মেনে চলতে আমরা বাধ্য। আপনার তরফে যে অবস্থান নেওয়া হয়েছে, আমি তাতে রাজি হতে পারছি না। আমি জানি আপনি অন্তত সংবিধান মেনে চলেন।” চিঠিতে রাজ্যপাল আরও বলেছেন, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের জন্যই তাঁর এই জেলা সফর। টুইটার পোস্টে তিনি লিখেছেন, “এমন একটা সঙ্কটের পরিস্থিতিতে প্রত্যেকের এক সঙ্গে কাজ করা উচিত।”

ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা নিয়ে রাজ্যপাল প্রথম দিন থেকেই উদ্বেগ জানাচ্ছেন। রাজ্যের মুখ্য সচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিবের থেকে এ ব্যাপারে বারবার রিপোর্টও চেয়েছেন। এমনকি শপথ গ্রহণের পর মমতাকে ছোট বোন বলে সম্মোধন করে বলেছেন, বাংলায় আইনের শাসন কায়েম হোক। ভোটের পর হিংসা ও সন্ত্রাস বন্ধ হোক।

কিন্তু এর পরেও হিংসার ঘটনা অব্যাহত থাকায় এ বার রাজ্যপাল নিজেই সন্ত্রাস কবলিত এলাকা ও আক্রান্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার তাঁর সফরের তালিকায় আছে শীতলকুচি-সহ কোচবিহারের বিভিন্ন এলাকা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কপ্টারে চেপে শীতলকুচি যাওয়ার কথা আছে তাঁর। এই সফর নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বুধবার বিকেলে রাজ্যপালকে চিঠি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই চিঠিতে তিনি বলেছিলেন, রাজ্যপালের পদটি কেবলই একটি সাংবিধানিক আলঙ্কারিক পদ। মুখ্যমন্ত্রী হলেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। তাঁকে এড়িয়ে রাজ্যপাল যে ভাবে প্রশাসনের অফিসারদের নির্দেশ দিচ্ছেন তা ঠিক নয়। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যপালের যদি কিছু বলার থাকে তা হলে যেন তাঁকে বলেন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More