মোহনবাগানের আইলিগ উৎসবে জনপ্লাবন, উধাও স্বাস্থ্যবিধি, পুজোয় কী হবে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরও একবার আবেগের বিস্ফোরণ দেখল ফুটবলের মক্কা। মোহনবাগানের আইলিগ ট্রফি হাতে পাওয়ার উৎসবে সবুজ মেরুন জনতার প্লাবনের সাক্ষী থাকল রবিবাসরীয় কলকাতা। কিন্তু সেই উৎসবের ছবি থেকেই প্রশ্ন উঠে গেল, তাহলে পুজোয় কী হবে।

করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার ফলে মার্চে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল আইলিগ। ম্যাচ বাকি থাকলেও মোহনবাগান চ্যাম্পিয়ন হয়ে গিয়েছিল। তবে ট্রফি হাতে আসেনি। এদিন বাইপাসের ধারের হায়াত রিজেন্সি হোটেলে এআইএফএফ-এর তরফে ট্রফি তুলে দেওয়া হয় বাগানের হাতে। হায়াত থেকে বাইপাস, উল্টোডাঙা, খান্না হয়ে কয়েক হাজার মোহনবাগান সমর্থক ট্রফি নিয়ে মিছিলে শামিল হন। আর তাতেই দেখা গিয়েছে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি।

সামাজিক দূরত্ব, মাস্ক পরা- এই সমস্ত বিধিই কার্যত শিকেয় উঠেছিল এদিন। বিধি কার্যকর করতে প্রশাসনিক তৎপরতাও চোখে পড়েনি। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে পুজোর কলকাতায় তাহলে কী হতে চলেছে? আদৌ কি প্রশাসন পারবে সমস্ত বিধি কার্যকর করতে?

পুজোর দিনগুলিতে স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর করতে নবান্ন কী ব্যবস্থা নিয়েছে সে ব্যাপারে রিপোর্ট চেয়েছে হাইকোর্ট। সোমবার জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে রাজ্যের তরফে সেই রিপোর্ট দেওয়ার কথা। ইতিমধ্যেই লালবাজার ঠিক করেছে, প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে নোডাল অফিসার নিয়োগ করবে।

এর আগেও ফুটবল উন্মাদনায় এমন অনেক মিছিল দেখেছে কলকাতা। আশিয়ান কাপ জিতে জাকার্তা থেকে ইস্টবেঙ্গল টিম শহরে নামার পর জন বিস্ফোরণ কিংবা সঞ্জয় সেনের নেতৃত্বে বাগানের আইলিগ জয়ের সেলিব্রেশন কলকাতার ফুটবল সমর্থকদের হৃদয়ে ফ্রেমে বাঁধানো রয়েছে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন।

যদিও অনেকের মতে, এই পরিস্থিতিতে সবটা প্রশাসনের পক্ষে করা সম্ভব নয়। মানুষের সচেতনতা প্রয়োজন। নাহলে সংক্রমণ রোখা যাবে না।

এদিন ছিল পুজোর আগে শেষ রবিবার। কলকাতার হাতিবাগান গড়িয়াহাট থেকে জেলায় বারুইপুর, বারাসত, সোদপুর– সর্বত্রই দেখা গিয়েছে কেনাকাটার জন্য মানুষের গিজগিজে ভিড়।

এমনিতেই চিকিৎসকদের যৌথ মঞ্চ সপ্তাহ তিনেক আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে পুজোর ভিড়ে রাস টানতে কড়া বিধির কথা বলেছিল। ওনামের পর কেরলের লাগামছাড়া সংক্রমণের উদাহরণ দিয়ে রাজ্যকে সতর্ক করেছিল তারা। তাদের আশঙ্কা, পুজোর ভিড়ে যদি নিয়ন্ত্রণ না করা যায় তাহলে পশ্চিমবঙ্গে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

তবে এদিনের ভিড়ের ছবি দেখার পর অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More