স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকা সত্ত্বেও ফেরাল একাধিক নার্সিংহোম, মৃত্যু বৃদ্ধের, তোলপাড় শিলিগুড়ির প্রশাসন

দ্য ওয়াল ব্যুরো, শিলিগুড়ি: স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড থাকা সত্ত্বেও ফিরিয়ে দিয়েছিল শিলিগুড়ির একাধিক নার্সিংহোম। মঙ্গলবার বাড়িতেই মৃত্যু হয়েছিল মাটিগাড়া প্রমোদনগরের বাসিন্দা সত্তরোর্ধ বৃদ্ধ মহম্মদ গফফরের। এই ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য সাথী নিয়ে একাধিক নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করলেন পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব।

গৌতমবাবু জানান, বেশ কিছু নার্সিংহোমকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। পাশাপাশি খোলা হচ্ছে গ্রিভান্স সেল। কোনও নার্সিংহোম কার্ড দেখানো সত্ত্বেও যদি রোগীকে ফিরিয়ে দেয়, সেই অভিযোগ গ্রিভান্স সেলে জমা পড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে রাজ্য সরকার।

বেশ কিছু দিন ধরেই শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন মাটিগাড়া প্রমোদনগর এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ গফফর। প্রথমে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। তাঁর পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠার আগেই রোগীকে ছুটি দিয়ে দেয় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। বাড়ি ফিরে ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

এরপরেই শুরু হয় রোগীকে নিয়ে দুর্ভোগ। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে একের পর এক নার্সিংহোমে ঘুরলেও কোথাও চিকিৎসা পাননি বলে অভিযোগ করেছে বৃদ্ধের পরিবার। পরিবারের সদস্যরা জানান, কার্ড দেখেই নার্সিংহোমগুলি জানিয়ে দেয়, এই কার্ডে ভর্তি নেওয়া যাবে না। টাকা দিয়ে ভর্তি করার মতো আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় শেষমেষ বৃদ্ধকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। মঙ্গলবার রাতে মারা যান বৃদ্ধ।

তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দু’সপ্তাহ আগেই স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড করানো হয়েছিল। লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলিয়ে, তথ্য জমা দিয়ে কার্ড হাতে পেয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। সেই কার্ডে মৃত ব্যক্তির নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তা সত্ত্বেও একরকম বিনা চিকিৎসায় মরতে হল তাঁকে। এই খবরে তোলপাড় হয় জেলা স্বাস্থ্য দফতর। আজ তড়িঘড়ি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষগুলিকে নিয়ে বৈঠক করেন রাজ্যের মন্ত্রী গৌতম দেব। তাতেও শেষপর্যন্ত স্বাস্থ্যসাথী কার্ডকে বেসরকারী হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলি মান্যতা দেবে কি না ভবিষ্যতই সে প্রশ্নের জবাব দেবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More