মহিলা আইনজীবী খুন, সিআইডির দ্বারস্থ জেলা পুলিশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো : মহিলা আইনজীবী খুনের ঘটনা চারদিন কেটে গেলেও এখনও রহস্যের কোনও কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। অধরা আততায়ীরা। আর তাই শেষ পর্যন্ত সিআইডির দ্বারস্থ হল পূর্ব বর্ধমানের জেলা পুলিশ। ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছে সিআইডির ফরেনসিক টিম।

বুধবার দুপুরে সিআইডির ফরেনসিক টিমের সিনিয়র সায়েন্টিস্ট চিত্রাক্ষর সরকার পূর্ব বর্ধমানের আঝাপুরে মিতালী ঘোষের বাড়িতে যান। ঘণ্টাখানেক তিনি বাড়ির বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেন। ঘরের মেঝে, ছাদ ও পাশের বাড়িতেও তিনি যান। খুন হওয়া জায়গা থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন। কথা বলেন প্রতিবেশীদের সঙ্গে। মৃতার ভাইয়ের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন এসডিপিও আমিনুল ইসলাম খান, সিআই শ্যামল চক্রবর্তী ও জামালপুর থানার ওসি পুষ্পেন্দু জানা।

চারদিক খতিয়ে দেখার পর তদন্তকারী আধিকারিক চিত্রাক্ষর সরকার বলেন বিভিন্ন নমুনা দেখে তিনি নিশ্চিত খুনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত আছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে কী ভাবে মৃত্যু হল সেই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এর আগে মঙ্গলবার একজন মহিলা অফিসার সহ দু’জনের ফিঙ্গার প্রিন্ট বিশেষজ্ঞ টিম মিতালী ঘোষের বাড়ি যান। তাঁরাও বাড়ির বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেন ও নমুনা সংগ্রহ করেন। এদিন মিতালীদেবীর ভাই গৌরাঙ্গ ঘোষ বলেন তাঁর দিদি এ ভাবে খুন হওয়ার পর তাঁরাও নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। তাঁরা চাইছেন পুলিশ প্রশাসন দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার করুক।

আঝাপুরের দোতলা বাড়িতে একাই থাকতেন বর্ধমান জেলা আদালতের মহিলা আইনজীবী মিতালী ঘোষ ( ৫৯ )। গত রবিবার সকালে পরিচারিকা গিয়ে অনেক ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া পাননি। তখন তিনি পাশের বাড়ি থেকে একটি মই নিয়ে টিনের চালে উঠে দেখতে পান উঠোনে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে রয়েছেন মিতালীদেবী।

এই দৃশ্য দেখে প্রতিবেশীদের ডাকেন পরিচারিকা। খবর দেওয়া হয় থানায়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ভিতরে চারদিক লণ্ডভণ্ড অবস্থায় ছিল। পুরো একতলা জুড়ে জিনিসপত্র এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলা ছিল। ঘরের ভিতরেও আলমারি খোলা ছিল। খবর পেয়ে সেখানে আসেন পরিবারের লোক। তাঁরা জানিয়েছেন জিনিসপত্র, গয়নাগাটি সরানো হয়েছে। পুলিশের আরও অনুমান মামলার নথিও চুরি করা হতে পারে।

শুধুই চুরির উদ্দেশ্যে খুন, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আশেপাশের বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এলাকায় কোথাও সিসিটিভি আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পড়ুন ‘দ্য ওয়াল’ পুজো ম্যাগাজিন ২০১৯ -এ প্রকাশিত গল্প

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More