আলুচাষি আত্মঘাতী, বাড়ির দাবি ঋণের আতঙ্কে

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম মেদিনীপুর: এক কৃষকের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে মঙ্গলবার সকালে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলো কেশপুরের কেশুরগেড়িয়া গ্রামে। মৃত কৃষক চিত্ত ডোকরার (৫৭) পরিবারের দাবি, আলু চাষ করে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েই আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি।

আলুর দাম ও ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরেই কেশপুর সংলগ্ন অঞ্চলের চাষিদের মধ্যে ক্ষোভের আঁচ। এমনকী চলতি মাসে রাস্তায় আলু ফেলে বিষের বোতল হাতে নিয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিলেন আলুচাষিদের একাংশ। তবে চিত্ত ডোকরার এমন আচমকা মৃত্যুতে হতচকিত গোটা গ্রাম।

গত সপ্তাহের শুরুতে দিন চারেক ধরে টানা বৃষ্টিতে বিঘের পর বিঘে আলুর জমি জলের নীচে চলে যায়। ফলে আলু চাষে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছিলেন কৃষকরা। তাঁদের বক্তব্য ছিল মেঘ সরে রোদ উঠলেই মাটির নীচে আলুতে পচন ধরবে।

চিত্ত ডোকরার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মরশুমে তিন বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলেন তিনি। কিন্তু এই হঠাৎ বৃষ্টিতে বিঘে প্রতি দশ হাজার টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন চিত্তবাবু। একদিকে ঋণের ভার, অন্যদিকে চাষের ক্ষতি, সব মিলিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরেই হতাশায় ভুগছিলেন তিনি। মঙ্গলবারও ভোরবেলা চাষের জমিতে গিয়েছিলেন চিত্তবাবু। কিছুক্ষণ পরে ফিরে এসেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হন বলে দাবি পরিবারের।

চিত্তবাবুর বাড়িতে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী এবং একমাত্র ছেলে। সেই ছেলেও চাষবাসের সঙ্গেই যুক্ত। এ দিকে চাষের ক্ষতির ফলেই চিত্তবাবু আত্মঘাতী হয়েছিলেন বলে মানতে নারাজ জেলা প্রশাসন। কেশপুরের বিডিও দীপক ঘোষ বলেন, “একজন কৃষক আত্মঘাতী হয়েছেন বলে আমরা শুনেছি। কিন্তু চাষের ক্ষতি হওয়াতেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন এমনটা নয়। তবু পুরো বিষয়টা আমরা খতিয়ে দেখছি।“ পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক পি মোহন গান্ধীও জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তাঁরা।

দু’দিন আগেই কেশপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শুভ্রা সেনগুপ্ত জানিয়েছিলেন, কেশপুর ব্লকে এ বার ন’হাজার হেক্টর জমিতে আলুচাষ হয়েছে। এর মধ্যে আট হাজার হেক্টর জমির আলুই নষ্টের মুখে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে চাষের ক্ষতিতেই চিত্তবাবুর আত্মহত্যা করেছেন বলে জোরালো দাবি তুলেছেন ওই গ্রামের অন্যান্য কৃষকরা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More