মণীশ খুনঃ পাটনা জেলে বন্দি সুবোধ সিংয়ের বিরুদ্ধে জারি প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট

দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ ব্যারাকপুরের বিজেপি নেতা মণীশ শুক্ল খুনের মামলায় তদন্ত করতে গিয়ে সুবোধ সিংয়ের নাম উঠে আসে পুলিশের হাতে। পাটনার বিয়র জেলে বন্দি সুবোধকে জেরা করতে সেখানে যান রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি-র আধিকারিকরা। এবার সেই সুবোধ সিংয়ের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করল ব্যারাকপুর আদালত।

জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সুবোধ সিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যারাকপুর আদালত এই ওয়ারেন্ট জারি করেছে। তাতে বলা হয়েছে। আগামী ২৮ অক্টোবর আদালতে হাজিরা দিতে হবে তাকে। এই হাজিরা দেওয়ার বিষয়ে পাটনা জেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রাজ্য পুলিশের তরফে যোগাযোগও করা হয়েছে বলে খবর।

বিজেপি নেতা মণীশ শুক্ল খুন হওয়ার ১২ ঘন্টার মধ্যে খুররমকে আটক করেছিল পুলিশ। ভোর রাতে খুররমের বাড়ি থেকেই তাকে তোলা হয়। মণীশের সঙ্গে খুররমের পুরনো শত্রুতা যে রয়েছে তা টিটাগড়ের অনেকেই জানেন। তার পর তাকে জেরা করেই একটার পর একটা লিড পেয়েছে সিআইডি।

জানা গিয়েছে, যেখানে মণীশকে খুন করা হয়েছিল তার মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে একটি নির্মীয়মাণ বহুতলের দোতলায় ভাড়াটে খুনিরা এক মাস ধরে ছিল। তাদের খাবার দাবার, বাইক ইত্যাদি যোগান দেওয়ার কাজ করেছিল সুবোধ রাই নামের এক দুষ্কৃতী। তাকে গ্রেফতারও করা হয়। এই সুবোধ রাইকে জেরা করে খুনের ঘটনায় ব্যবহার করা বাইক, আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে।

তারপরেই মণীশ শুক্ল খুনের ঘটনায় আরও এক সুবোধের খোঁজ পায় সিআইডি। তার নাম সুবোধ সিং ওরফে অভিষেক। পাটনা জেলে বন্দি সুবোধ। গত বৃহস্পতিবার পাটনা জেলে গিয়ে সেই অভিষেককে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ করেন রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি-র অফিসাররা।

পুলিশ সূত্রে খবর, পাটনা জেলে বসে খুনের পরিকল্পনা করেছিল এই সুবোধই। বিহার থেকে ৬ জন ভাড়াটে খুনি সেই জোগাড় করে ব্যারাকপুর-টিটাগড়ে পাঠিয়েছিল। সুবোধ একজন সুপারি কিলার। তা ছাড়া ডাকাতি, রাহাজানি সব রকমের অপরাধের ঘটনায় দীর্ঘ দিন ধরে হাত পাকিয়েছে সে। বর্তমানে ব্যাঙ্ক ডাকাতির অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে সে এখন পাটনা জেলে বন্দি রয়েছে।

তবে এর মধ্যেই উঠছে অনেক প্রশ্ন। সুবোধ সিংকে সুপারি দিয়েছিল কে? মণীশ শুক্ল খুনের জন্য আততায়ীদের বিহার থেকে ভাড়া করে আনতে টাকা দিয়েছিল কে? মণীশের সঙ্গে তার কীসের বিরোধ। খুনই বা করাতে চেয়েছিল কেন? দুই সুবোধের যোগাযোগ কী ভাবে হয়েছিল? আর নেপথ্যে নাটের গুরু কে?

এ সব প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। আর এই অজানা উত্তরের জন্যই সুবোধকে জেরা করতে চান তদন্তকারী অফিসাররা। জেরা করলেই আরও অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা। আর সেই কারণেই ব্যারাকপুর আদালতের তরফে জারি করা হয়েছে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট। এখন দেখার এই ঘটনার প্রবাহ ঠিক কোন দিকে যায়।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More