ববি স্কুটি চালাচ্ছেন, মমতা সওয়ারি, পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির অভিনব প্রতিবাদ দিদির

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার রাতেই জানা গিয়েছিল মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ব্যাটারিচালিত স্কুটি চড়ে নবান্ন যাবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হলও তাই। এদিন স্কুটির পিছনে বসে হাজরা থেকে নবান্নর দিকে যাত্রা শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী। মাথায় নীল হেলমেট পরে রয়েছেন তিনি। গলায় ঝুলছে পেট্রল,ডিজেলের দামবৃদ্ধির বিরুদ্ধে লেখা পোস্টার। নিরাপদে নবান্নে পৌঁছে যান তিনি। সেখানে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেন স্বভাবোচিত ঢংয়ে। জানান, তিনি নবান্ন থেকে বাড়িও ফিরবেন এই স্কুটিতে চেপেই।

বেশ কিছুদিন ধরে একাধিক সভায় বারবার পেট্রল, ডিজেল, রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির জন্য কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারকে আক্রমণ করছেন মুখ্যমন্ত্রী। অভিযোগ তুলছেন, সাধারণ মানুষের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে।

সম্প্রতি রাজ্য সরকার লিটার প্রতি ১ টাকা করে কমিয়েছে পেট্রোপণ্যের দাম। গত রাতে আবার রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ২৫ টাকা। অন্যদিকে মমতার নির্দেশে রাজ্যজুড়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছেন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। এবার নিজেও রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে সামিল হলেন দিদি।

গত শনিবার এই মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে দক্ষিণ কলকাতায় মিছিল করে তৃণমূল। যাদবপুর থেকে যদু বাবুর বাজার পর্যন্ত মিছিল হয়। বেহালায় মিছিল হয় রবিবার, ৩ এ থেকে ১৪ নম্বর বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত। শনিবার মিছিল হয় উত্তর কলকাতাতেও।

শুধু তাই নয়, শাখা সংগঠনগুলিকেও ময়দানে নামিয়েছে শাসকদল। মায়েদের হেঁসেলে আগুন ধরেছে, এমন বার্তা দিতেই দলের মহিলা নেত্রীদের সামনে রাখছে তৃণমূল। গ্যাস বণ্টন কেন্দ্রগুলির সামনে বিক্ষোভ হয় কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে। গত সোমবার তৃণমূলের মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, দোলা সেনদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ হয় ধর্মতলায়। তৃণমূল ছাত্র পরিষদকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পেট্রল পাম্পের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করার।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, “সাধারণ মানুষকে অসহায় অবস্থায় ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। যাঁদের বাড়িতে দুটো গ্যাস সিলিন্ডার, তাঁরা কী করে চালাবেন? কেরোসিন পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষক-মজুরদের রেয়াত করা হয় না। ভোটের আগে মিথ্যে কথা বলে বিজেপি। এই দেশটাকে মোদী-সরকার বেচে দিচ্ছে। এই সরকার মানুষের বিরোধী সরকার। ইচ্ছেমতো স্টডিয়ামের নাম বদলে দিচ্ছে। আমরা চাই না এরকম কোনও সরকার থাকুক। খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আন্দোলন চলছে, চলবে।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More