রাজ্যে টিকাকরণে গতি আনতে বৈঠক মুখ্যসচিবের, কর্মীদের টিকা দেওয়ার অনুমতি বেসরকারি অফিসগুলোকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ। কলকাতায় আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এমন অবস্থায় টিকাকরণে গতি আনার কথাই বললেন রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ বণিক সভার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যসচিব। করোনা মোকাবিলায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে সে ব্যাপারে নানা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মুখ্যসচিব জানিয়েছে, গোটা রাজ্যেই টিকাকরণ প্রক্রিয়ায় গতি আনতে হবে। আগে মানুষ টিকা নিতে ভয পেতেন। এখন যেভাবে সংক্রমণ বাড়ছে তাতে টিকা নেওয়ার উৎসাহ দেখা গেছে বেশিরভাগের মধ্যেই। বহু মানুষ এখন করোনার প্রতিষেধক নিতে ইচ্ছুক। ভ্যাকসিনের ভাড়ারে যাতে টান না পড়ে সে জন্য গতকালই চার লক্ষ কোভিশিল্ড টিকার ডোজ এসে পৌঁছেছে রাজ্যে। টিকার ভায়াল পাঠিয়ে দেওয়া হবে জেলায় জেলায়।

বৈঠকে ঠিক হয়েছে, শহরে টিকাকরণ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করার জন্য কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডে যেসব পুর স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে সেখানে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিদিন শহরের ৩০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়ার বন্দোবস্ত করতে হবে। ধাপে ধাপে এই সংখ্যা বাড়ানো হবে। রাজ্যের কোভিড আক্রান্ত জেলাগুলির মধ্যে কলকাতাই এখন শীর্ষে। সংক্রমণ লাগামছাড়া। ভাইরাস সক্রিয় রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। কাজেই যত বেশি সংখ্যক মানুষকে টিকা দেওয়া হবে ততটাই দ্রুত হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হবে। সংক্রমণের হারে লাগাম পরানো যাবে। এখন প্রতিদিন রাজ্যে প্রায় চার লক্ষ মানুষকে টিকা দেওয়া হয়। এই সংখ্যাও পর্যায়ক্রমে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কর্মক্ষেত্রে টিকাকরণ প্রক্রিয়া চালু করার কথাও বলেছেন মুখ্যসচিব। সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলো চাইলেই তাদের কর্মীদের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারে। কেন্দ্রীয় সরকার এ ব্যাপারে রাজ্যগুলিকে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছিল। সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে এই কর্মসূচী চালু করার কথাও বলা হয়েছিল। সংক্রমণের মধ্যেও প্রতিদিন বহু মানুষকে অফিসে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বাসে-ট্রেনে চাপতেও হচ্ছে। সেখান থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর ভয় থেকেই যাচ্ছে। তাই সেসব অফিস তাদের কর্মীদের টিকাকরণে ইচ্ছুক তারা এই কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করতে পারে বলে জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব রাজেশ ভূষণ। আজকের বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়।

মুখ্যসচিব বলেছেন, ৪৫ বছর ও তার বেশি বয়সী কর্মীদের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারে বেসরকারি অফিসগুলো। সেই অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়াও, অফিসগুলোকে কোভিড বিধি মেনে চলতে হবে, যেমন– কর্মীদের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে হবে। কাজের সময় সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং মেনে চলা আবশ্যক। থার্মাল চেকিং জরুরি, লিফটে চারজনের বেশি ওঠায় নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে এবং সম্ভব হলে হাজিরা কমিয়ে ৫০ শতাশে নিয়ে আসতে হবে। কলকাতা সহ জেলাগুলির বড় বড় আবাসনের কর্তৃপক্ষ চাইলে নিজেদের উদ্যোগে বাসিন্দাদের টিকাকরণের ব্যবস্থা করতে পারে, সে ছাড়পত্রও দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More