দেশের প্রথম মহিলা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের শীর্ষ পদে, আকাশে বৈষম্যের শৃঙ্খল ভাঙলেন বাঙালি মেয়ে শ্যামলী

এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিন দশক ধরেই। মহিলা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের মধ্যে তিনিই এতদিন এই দায়িত্বে রয়েছেন। মঙ্গলবার শ্যামলীকে কলকাতার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি)-এর জেনারেল ম্যানেজারের পদ দেওয়া হয়।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লিঙ্গ বৈষম্যের শৃঙ্খল ভাঙল আকাশেও। জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজের দায়িত্বেও শীর্ষে বসলেন এক মহিলা। দেশে প্রথম এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের জেনারেল ম্যানেজারের পদ পেলেন বাঙালি মেয়ে শ্যামলী হালদার। এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টে এতদিন পুরুষদেরই একাধিপত্য ছিল। এই প্রথম কোনও মহিলা সে দায়িত্ব পেলেন।

এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিন দশক ধরেই। মহিলা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের মধ্যে তিনিই এতদিন এই দায়িত্বে রয়েছেন। মঙ্গলবার শ্যামলীকে কলকাতার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি)-এর জেনারেল ম্যানেজারের পদ দেওয়া হয়।

১৯৮৯ সালে ন’জন মহিলার মধ্যে শ্যামলীকেই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। তাঁর আগে আরও তিনজন ওই পদে ছিলেন, তবে অল্প সময়ের জন্য। ১৯৭৩ সালে এয়ার কন্ট্রোলার হিসেবে এক মহিলা যোগ দেন, তবে তিন বছরের মাথায় তিনি সে পদ ছেড়ে দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় নিয়োগ হয়েছিল ১৯৮৫ সালে। ওই মহিলা এয়ার কন্ট্রোলার পরে সিভিল অ্যাভিয়েশনের ডিরেক্টর জেনারেলের দায়িত্ব পান। তৃতীয় জনের মৃত্যু হয়। এর পরে শ্যামলী হালদারই এতদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজের দায়িত্ব সামলে এসেছেন সাহস ও দক্ষতার সঙ্গে।

Bengali Woman Creates History Shyamali Halder Becomes India's First Woman Air  Traffic Management General Manager | বঙ্গতনয়ার নজির, দেশের প্রথম এয়ার  ট্র্যাফিক ম্যানেজমেন্টের জেনারেল ...

৫৬ বছরের শ্যামলীর জন্ম মহারাষ্ট্রের নাগপুরে। সেখানেই বেড়ে ওঠা। পড়াশোনাও নাগপুরেই করেছেন। ১৯৯০ সালে এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়ার অ্যারোড্রাম অফিসার হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৯১ সালে তাঁর পোস্টিং হয় কলকাতায়। শ্যামলীর সঙ্গেই কলকাতার এটিসিতে যোগ দেন আর্যম্যা সান্যাল, এখন তিনি ইনদওর এয়ারপোর্টের ডিরেক্টর। আর্যম্যা বলেছেন, শ্যামলীর উপস্থিত বুদ্ধি এবং সাহস প্রশংসনীয়। এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট হল ভীষণই ঝুঁকির কাজ। দক্ষতা না থাকলে এই কাজ বেশিদিন করা যায় না। মানসিক চাপ থাকে প্রচণ্ড। সর্বক্ষণ নজর রাখতে হয়। সামান্য ভুলে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। মহিলারা অনেক সময়েই এতটা মানসিক চাপ নিতে পারেন না, তাই এই দায়িত্বে বেশিদিন কেউ থাকতে পারেন না। কিন্তু শ্যামলী ব্যতিক্রম।

কলকাতা এটিসি-র জয়েন্ট জিএম (অটোমেশন ইনচার্জ) অসিত সিনহার কথায়, মহিলা হোক বা পুরুষ, যে কোনও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারকে দায়িত্বশীল ও মনোযোগী হতে হয়। সে পরীক্ষায় পাশ করে গেছেন শ্যামলী। একজন মহিলাই পারেন মনোযোগ দিয়ে নিষ্ঠাভরে দায়িত্ব পালন করতে। আর শ্যামলী শুধু মনোযোগী নন, তিনি সাহসিও।

এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের নানা পদে দায়িত্ব সামলেছেন এই বাঙালি কন্যা। কলকাতা ও রাঁচিতে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের শিফ্ট ইনচার্জ ছিলেন, নবাগতদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, নাগপুরে এটিসি-র ট্রেনিং ইনচার্জ ছিলেন, গুয়াহাটিতে সার্ভিস ইনচার্জের দায়িত্বও সামলেছেন। শ্যামলীর কথায়, “অনেকেই বলেছেন এই কাজে স্ট্রেস খুব বেশি। একই সঙ্গে পরিবার ও পেশা সামলানো সম্ভব হয় না। কিন্তু আমি খুব সহজভাবেই দুদিক সামলানোর চেষ্টা করি। দীর্ঘদিন ধরেই এই কাজ করছি। তাই সমস্যা হয় না।”

একা হাতেই মেয়েকে বড় করেছেন। পেশার দিকে তিনি যতটা দায়িত্বশীল, ততটাই একজন স্নেহময়ী মা। বলেছেন, “খুব সাধারণভাবে জীবন কাটানোর চেষ্টা করি। অফিসের কাজ বাড়িতে আনি না, আবার কাজের সময় একশো ভাগ দেওয়ার চেষ্টা করি। আমার মনোযোগী হওয়ার একমাত্র কারণ হল আমার মেয়ে এবং পেশা এই দুদিকেই ব্যালেন্স করে চলা।”

প্রথম মহিলা এয়ার ট্রফিক কন্ট্রোলারের চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিয়েছেন শ্যামলী। ৩০০ জন কন্ট্রোলারের দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। পূর্ব ভারতের বিশাল আকাশসীমা সামলানোর গুরুদায়িত্বও তাঁর। শ্যামলী সফল হবেনই, এই আশা রাখছেন তাঁর সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষরাও।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More