মমতার ভাই কার্তিক, ‘তৃণমূলের কেউ না’, প্রশ্নের জবাবে সৌগত

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই। নাম কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতি বারই স্বামী বিবেকানন্দর জন্ম জয়ন্তীতে তাঁর অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বিবেক’-এর নামে একটি অনুষ্ঠান করেন কার্তিক। মঙ্গলবার সেই তিনি ‘বিবেক মেলায়’ তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বলেন, “মুখে দেশের-দশের কথা বলব। আর সুযোগ-সুবিধা দেব নিজের পরিবারকে। এটাই এখন রাজনীতি।” এখানে না থেমে কার্তিক আরও বলেন, “আগামীদিনে কী হবে, সেটা কেউ বলতে পারে না। কালকে কী করব? আমি নিজেও জানি না।”

এ নিয়ে বুধবার তৃণমূল ভবনের সাংবাদিক বৈঠকে প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের কেউ না। কোনও পদে নেই। বিধায়ক বা সাংসদও নন।”

কিন্তু সত্যিই কি তাই?

লোকসভা ভোটের পরে প্রথম প্রকাশ্য কর্মসূচি করতে দিদি গিয়েছিলেন নৈহাটিতে। তখন অভিযোগ উঠেছিল, ভাটপাড়া, জগদ্দলে বিজেপির সন্ত্রাসে তৃণমূল কর্মীরা ঘড়ছাড়া হয়ে পড়েছেন। পার্টি অফিস খোলা যাচ্ছে না। ছুটে গিয়েছিলেন মমতা। সেই মঞ্চ থেকেই দিদি দুটি ফ্রন্টাল সংগঠন ঘোষণা করেছিলেন। এক, বঙ্গজননী বাহিনী এবং দুই, আজাদ হিন্দ ব্রিগেড। পরে দেখা যায় বঙ্গজননীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। এবং কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেওয়া হয় আজাদ হিন্দ বাহিনীর দায়িত্ব। দেখা গিয়েছিল পুরুলিয়ায় আজাদ হিন্দ ব্রিগেডে সভাও করতে গিয়েছেন কার্ত্তিকবাবু। ফলে সৌগত রায়ের এদিনের কথা শুনে অনেকেই বলছেন, মাস্টারমশাই বোধহয় ঠিক বলছেন না!

বস্তুত কার্ত্তিক দলত্যাগী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে যে যোগাযোগ রাখেন তা সর্বজনবিদিত। সম্ভবত গত বছর বিবেক মেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন শুভেন্দু। আবার সম্প্রতি খড়দহর এক সভায় আবার শুভেন্দু ‘ভাইপো’র উদ্দেশে বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, “বাবুসোনা, তোমার বাড়িতেও পদ্মফুল ফোটাব।” সেই কারণেই এখন অনেকে অনেকে শুভেন্দুর কথার সঙ্গে কার্তিকের মন্তব্যের যোগসূত্র খুঁজতে নেমেছেন। অনেকের মতে, সেই কারণেই হয়তো তাঁর সঙ্গে এখন দূরত্ব বাড়াতে চাইছে তৃণমূল।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More