চুরি যাওয়া সদ্যোজাত ফিরল মায়ের কোলে, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চোর ধরল পুলিশ

শিশু চুরির তদন্তে নামে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। খতিয়ে দেখা হয় হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ। দেখা যায় ঠিক যে সময়ে সদ্যোজাতর দিদা ও ঠাকুমা বাইরে ছিলেন তখনই এক মহিলা তোয়ালে ঢাকা দিয়ে কোলে করে একটি বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতালের মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার হাবের মূল দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চারঘণ্টার মধ্যে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ থেকে বাচ্চা চুরির ঘটনার কিনারা করল পুলিশ। সদ্যোজাত ফিরল মায়ের কোলে। হাঁফ ছেড়ে বাঁচল পরিবার। এই ঘটনায় আটক করা হয়েছে মাঝবয়সী এক মহিলাকে।

রবিবার দুপুরে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ থেকে বাচ্চা চুরির ঘটনায় তুমুল উত্তেজনা ছড়াল হাসপাতাল চত্বরে। শনিবার রাতে প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন চন্দ্রকোনা রোডের কাঞ্চনগিরি এলাকার বাসিন্দা সুনিতা খামরুই। রাত ১১টা নাগাদ পুত্রসন্তানের জন্ম দেন তিনি। রবিবার সকালে সদ্যোজাত শিশুপুত্রকে দেখতে আসেন নবজাতকের ঠাকুমা ও দিদা। তাঁরা এসে বেলা ১১টা নাগাদ মায়ের পাশে বাচ্চাটি নেই।

খোঁজ শুরু হয় মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাবে। নবজাতকের মা সেই সময় ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। বাইরে খাবার খেতে গিয়েছিলেন দিদাও ঠাকুমা। হোটেল থেকে ফিরে এসে বাচ্চাকে না দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা কর্মরত নার্সদের নজরে আনেন বিষয়টি। এরপর দীর্ঘক্ষন খোঁজাখুঁজির পরেও মেলেনি সদ্যোজাতর হদিস।

শিশু চুরির তদন্তে নামে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। খতিয়ে দেখা হয় হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ। দেখা যায় ঠিক যে সময়ে সদ্যোজাতর দিদা ও ঠাকুমা বাইরে ছিলেন তখনই এক মহিলা তোয়ালে ঢাকা দিয়ে কোলে করে একটি বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতালের মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার হাবের মূল দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। এরপর খোঁজ শুরু হয় ওই মহিলার।

গোটা ঘটনায় চাপে পড়ে যায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রশ্ন ওঠে মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার বিভাগের নিরাপত্তা নিয়ে। মুখে কুলুপ আঁটেন সুপার। শিশুটি মায়ের কোলে ফেরায় চাপমুক্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও। তবে সুপার জানিয়েছেন, এই ঘটনা কী ভাবে ঘটল তা নিয়ে তদন্ত হবে।

বিকেলে মেদিনীপুর শহরের মিঁয়া বাজার থেকে শিশু-সহ ওই মহিলাকে আটক করে পুলিশ। তবে ওই মহিলার নাম পরিচয় সম্পর্ক কিচ্ছু জানায়নি পুলিশ। মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয় সদ্যোজাতকে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মহিলাকে জেরা করা হচ্ছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে তার সঙ্গে শিশু চুরির কোনও বড় চক্রের যোগ আছে কিনা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More