সিপিএম-কংগ্রেস উলঙ্গ হয়ে গেল, আগে ওদের নিয়ে গর্ব করতাম: সুব্রত, আব্বাস প্রশ্নে শঠে শাঠ্যং

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আব্বাসউদ্দিন সিদ্দিকির ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের সঙ্গে বামেদের জোট কতটা সঙ্গত তা নিয়ে তাত্ত্বিক তর্ক চলছে। সোমবার সেই তর্কে ঝাঁপ দিল তৃণমূলও।

এদিন তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে দলের প্রবীণ নেতা ও পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে রবিবার একটা অভিনব ঘটনা ঘটেছে। জাতপাতের রাজনীতি কংগ্রেস ও সিপিএম করে না বলে আমরাও গর্ব করতাম। ওদের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও তা বলতাম। এখন বিজেপির সঙ্গে জাতপাতের রাজনীতির খাতায় আরও দুটি নাম জুড়ল। সিপিএম ও কংগ্রেস নিজেরাই উলঙ্গ হয়ে গেল”।

তৃণমূলের এই সমালোচনা তাৎপর্যপূর্ণ। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, সুব্রতবাবুর এই সমালোচনাকে দু’ভাবে দেখা যেতে পারে। এক, প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষতার অবস্থান থেকে বাম, কংগ্রেসের অবস্থানের সমালোচনা করছেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়েই তাঁর হাতেখড়ি। গান্ধী ও নেহরুর ধর্মনিরপেক্ষতার দর্শন তাঁর মজ্জায় থাকা স্বাভাবিক। দুই, আব্বাসের সঙ্গে বাম কংগ্রেসের জোট নিয়ে হয়তো উৎকন্ঠা রয়েছে তৃণমূলের। কারণ, সংখ্যালঘু ভোটে আব্বাসরা ভাগ বসালে তৃণমূলের ক্ষতি হতে পারে। তা ছাড়া রবিবার ব্রিগেডে আব্বাস অনুগামীদের জমায়েত ছিল চোখে পড়ার মতো।

এদিন সুব্রতবাবুর সমালোচনার জবাবও দিয়েছেন বিধানসভায় কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক মনোজ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “লোকসভা ভোটের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শুনেছিলাম, যে গরু দুধ দেয় তার লাথিও খাব। সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের বিবেক কি তখন ঘুমিয়ে ছিল? বাংলায় বিভাজনের রাজনীতির বীজ ছড়িয়েছে তো তৃণমূলই। বিজেপিকে হাত ধরে টেনে বাংলায় ঢুকিয়েছেন মমতা। মানুষ কি সব ভুলে গেছে?”

অন্যদিকে বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, ব্রিগেডের সভায় আব্বাসউদ্দিন কী বলেছেন, তা নিশ্চয়ই মন দিয়ে শুনেছেন সুব্রতবাবু। আব্বাসের কথার মধ্যে কোনও ধর্মীয় মন্তব্য কি ছিল? আসল কথা হচ্ছে, তৃণমূল ভয় পাচ্ছে। আমার কথা হল, সবে শুরু। আরও ভীত হওয়ার সময় ওদের আসছে”।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More