মমতার হয়ে নন্দীগ্রাম দেখবেন ‘ব্রাহ্মণ সন্তান’ সুব্রত, ৩৭ বছর আগের কথা মনে পড়ছে অনেকেরই

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৮ তারিখ তেখালির সভায় গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, নন্দীগ্রামের জন্য গিরিই যথেষ্ট। পরে সেই বক্তৃতাতেই দিদি ঘোষণা করে দিয়েছিলেন, এ বার নন্দীগ্রামে প্রার্থী হবেন তিনি। সেই সঙ্গে বলেছিলেন, ‘আমি তো ঘন ঘন আসতে পারবেন না। ২৯৪ টা আসন আমাকে দেখতে হবে। তাই আপনারাই দেখে নেবেন’।

কিন্তু বৃহস্পতিবার নতুন যে ঘোষণা হল, তাতে অনেকে মনে করছেন স্রেফ ‘আপনারা’ অর্থাৎ স্থানীয় নেতা, সমর্থক, আবু সুফিয়ান, আবু তাহেরদের উপর পুরো ভরসা করা যাচ্ছে না। তাই কলকাতা থেকে পোড় খাওয়া পর্যবেক্ষক তথা মন্ত্রী যাচ্ছেন নন্দীগ্রামে। তিনি পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়।

সুব্রতবাবু ব্রাহ্মণ সন্তান। সগৌরবে একডালিয়া এভারগ্রিনে দুর্গাপুজো করেন জাঁকজমক করে। অনেকে মনে করেছেন, নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী তথা বিজেপি যেভাবে হিন্দু ভোট মেরুকরণের চেষ্টা করছেন, তা রুখতেই সুব্রতবাবুর কাঁধে নতুন দায়িত্ব চেপেছে। কারণ শুভেন্দু স্পষ্ট বলছেন, “মাননীয়া কীসের ভরসায় নন্দীগ্রামে দাঁড়ানোর কথা বলছেন জানি। ৬২ হাজারের ভরসায়। কিন্তু আমারও অঙ্কটা জানা আছে। ৬২ হাজারের উল্টোদিকে দু’লক্ষ ১৩ হাজার রয়েছে। যাঁরা জয় শ্রীরাম বলেন।”
তা ছাড়া আরও একটা ব্যাপারে দুদিন আগে ঘটেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনার জবাব দিতে দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর নামও টেনে এনেছেন। অভিষেক বলেছিলেন, নারদ কাণ্ডে তোমাকে তো কাগজে মুড়ে টাকা নিতে দেখা গিয়েছে। শুভেন্দু তার জবাবে বলেন, আপনার বড় জ্যাঠামশাই সুব্রত মুখোপাধ্যায়ও তো তাই করেছিলেন। তিনিও কি তোলাবাজ? সেই সঙ্গে বলেছিলেন, আসলে তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ কেডি সিংহকে দিয়ে সেই স্টিং অপারেশনের নেপথ্যেও ছিলেন ভাইপো।

সে যাক। এদিন সুব্রতবাবু এদিন জানিয়েছেন, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তিন দিন নন্দীগ্রামে কাটাবেন তিনি। তাঁর কথায়, “নন্দীগ্রামের সমস্ত ব্লকে যাব। সব কর্মীদের সাথে কথা বলব। নন্দীগ্রাম আমাকে দেখতে বলা হয়েছে। দল মনে করেছে আমি দীর্ঘদিন ধরে ভোট করছি। তাই আমি বুঝতে পারব।”

পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে সংসদীয় রাজনীতিতে রয়েছেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী ছিলেন তিনি। তাঁর অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার যে বিপুল এ ব্যাপারে সন্দেহ নেই। তা ছাড়া এ ঘটনায় ৩৭ বছরের পুরনো কথাও মনে পড়ছে অনেকের।

৮৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রে যুৎসই প্রার্থী পাচ্ছিলেন না প্রণব মুখোপাধ্যায়রা। সেই সময়ে সুব্রতবাবুই প্রণববাবুকে বলেছিলেন, একটি মেয়ে রয়েছে। লড়াকু। ওকে প্রার্থী করলে খারাপ হবে না। সে কথা শুনেছিলেন প্রণববাবু। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাদবপুরে প্রার্থী হওয়ার পর তাঁর হয়ে প্রচারেও গিয়েছিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। এ বার আবার মমতার হয়ে জমি বুঝতে নন্দীগ্রামে যাচ্ছেন সুব্রত।

এমনিতে দলের হয়ে কেন্দ্রওয়াড়ি সমীক্ষা চালানো রাজনীতিতে নতুন নয়। তবে বেশির ভাগ সংগঠিত দলই তা করে গোপনে। লোকসভার আগে যেমন কেশিয়াড়িতে এসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামনাথ মেঘাওয়াল চার দিন থেকে গিয়েছিলেন। তিনি ফিরে যাওয়ার পর অনেকে সেটা জানতে পেরেছিলেন। এ নিয়ে প্রশাসনিক সভায় মুখ্যমন্ত্রীকে ধমকের সুরে বলতে শোনা গিয়েছিল, “আপনারা খোঁজ রাখছেন না। বাইরে থেকে লোক এসে থেকে যাচ্ছে, আপনাদের কাছে খবর নেই। গেস্টহাউস, লজগুলোকে ভাল করে মনিটরিং করুন।” তবে তৃণমূলের সমীক্ষার কথা গোপন রইল না। সুব্রতবাবু নিজেই তা জানিয়ে দিলেন।

সুব্রতবাবুকে তৃণমূল নন্দীগ্রামের জমি জরিপ করতে পাঠাচ্ছে শুনে বিজেপির এক মুখপাত্র টিপ্পনি কেটে বলেন, “সুব্রতবাবু ফিরে এসে এমন রিপোর্ট দেবেন হয়তো দেখবেন দিদি আর দাঁড়াতে চাইছেন না!”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More