১৫ দিনে মারাদোনার মোমের মূর্তি বানিয়েছিলেন সুশান্ত রায়, অবাক হয়েছিলেন খোদ ফুটবলের রাজপুত্র

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমানঃ মাত্র ৬০ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বুধবার রাতে চলে গিয়েছেন ফুটবলের রাজপুত্র দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা। তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত গোটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমী মানুষ। এই মারাদোনার সঙ্গে আসানসোলের নাম জড়িয়েছিল আজ থেকে ১২ বছর আগে, সেই ২০০৮ সালে। তা হয়েছিল আসানসোলের মহিশীলা কলোনির বাসিন্দা মোম শিল্পী ভাস্কর্য সুশান্ত রায়ের হাত দিয়ে। সুশান্ত রায়কে মাত্র ১৫ দিনে তৈরি করতে হয়েছিল মারাদোনার মোমের মূর্তি। নিজের সেই মূর্তি দেখে রীতিমতো হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন ফুটবলের রাজপুত্র। নিজের সামনে মোমের মূর্তি দেখে মারাদোনা জড়িয়ে ধরিয়েছিলেন সেই সুশান্তকে।

২০০৮ সালে কলকাতায় এসেছিলেন দিয়েগো মারাদোনা। সেই সময়ে বামফ্রন্ট সরকারে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ছিলেন সুভাষ চক্রবর্তী। তিনি আসানসোলের সুশান্ত রায়কে মারাদোনাকে উপহার হিসাবে দেওয়ার জন্য মোমের মূর্তি তৈরি করতে বলেছিলেন। কিন্তু হাতে সময় ছিল মাত্র ১৮ দিন।

এদিন সুশান্ত রায় বলেন, “এত কম সময়ে একটা পূর্ণাবয়ব মূর্তি তৈরি করা যায় না। বলতে গেলে তা একটা অসম্ভব কাজ ছিল। কমপক্ষে দেড় মাসের আগে একটা মোমের মূর্তি তৈরি করা যায় না। তবু আমি জেদ ধরি এমন একজনের মূর্তি আমাকে তৈরী করতেই হবে মন্ত্রীর দেওয়া সময়ের মধ্যে। মনের ইচ্ছার জোরে রাতদিন এক করে ১৫ দিনের মধ্যে মারাদোনার মোমের মূর্তির কাজ শেষ করি।” কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে হওয়া এক অনুষ্ঠানে সেই মূর্তি শিল্পী সুশান্ত রায়ের হাতে দিয়েই দেওয়ানো হয়েছিলে মারাদোনাকে। দোভাষীর সাহায্যে মারাদোনা শিল্পী সুশান্ত রায়কে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি তাঁর হাতের কাজের প্রশংসা করেছিলেন ।

তবে এই স্মৃতির মাঝে সুশান্ত রায়ের আক্ষেপ রয়েছে। তাঁর তৈরী সেই মূর্তিটি ফুটবলের রাজপুত্রের দেশ আর্জেন্টিনা নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তী প্রয়াত হওয়ায় সেই মোমের মূর্তিটি তখনকার মতো শিল্পীর কাছেই থেকে যায়। পরে মারাদোনার ছোঁয়া পাওয়া সেই মূর্তিটি কলকাতার ওয়াক্স মিউজিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সেখানেই তা রয়েছে।

‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল খ্যাত দু’যুগেরও বেশি সময় ধরে গোটা বিশ্বের ফুটবল প্রেমীদের মনে থাকা মারাদোনার মৃত্যুর খবর পেয়ে শিল্পী শোকাহত। তিনি বলেন, “৬০ বছর বয়সটা মারা যাওয়ার সময় নয়। আমরা অসময়ে ফুটবলের রাজপুত্রকে হারালাম। মূর্তির পায়ে যে ফুটবলটি ছিলো সেটি নিয়ে তিনি খেলেছিলেন। ড্রিবলিংও করেছিলেন। সেই ফুটবল আসানসোলেই রয়েছে। মোমের মারাদোনা রয়েছেন কলকাতায়। কিন্তু তিনি আজ চলে গেলেন সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে।”

২০০৮ সালে কলকাতার সেই অনুষ্ঠানে মারাদোনাকে রাজকীয় ভাবে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। তাঁকে উপলক্ষ করে হওয়া সেদিনের প্রীতি ম্যাচের আগে ফুটবলপ্রেমী মানুষেরা ১০ মিনিটের জন্য তাঁর পায়ের জাদু দেখেছিলেন। যা আজও সবার স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করছে। মারাদোনা না থাকলেও কেউ তা ভুলবেন না বলেই স্থির বিশ্বাস সুশান্ত রায়ের।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More