মাস্কের মধ্যে চেন, সেটা খুলে বিড়ি খাচ্ছে, ভিডিও ভাইরাল, কিন্তু ব্যাপারটা বিপজ্জনক

প্রশ্নটা হচ্ছে, এই মাস্কের চেন খুলে বিড়ি টেনে, ধোঁয়া গিলে আবার সেই মাস্কে মুখ ঢেকে ফেলাটা কতটা নিরাপদ। ধূমপায়ীরা যতই মনে মনে খুশি হন না কেন, এই পদ্ধতি কিন্তু মোটেই নিরাপদ নয়।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুতির প্রিন্টেড মাস্ক। ঠিক ঠোঁটের জায়গাটায় চেন লাগানো। এই চেন খুললেই বেশ স্বচ্ছন্দে মুখ খোলা যাবে। আর তারই সুবিধা নিয়ে দিব্যি বিড়ি ফোঁকাও যাবে। এই নতুন কায়দাই শেখাচ্ছিলেন এক ব্যক্তি। মাস্কের চেন খুলে বিড়ি টানার এই নতুন কৌশল এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। হাসি-মস্করাও যেমন চলছে, তেমনি ধূমপায়ীরা মনে মনে তারিফও করছেন।

ভাইরাল ভিডিওতে চেন-মাস্কের সুবিধার কথা বোঝাতে গিয়ে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা গেছে, এই পদ্ধতি নাকি খুবই নিরাপদ। মাস্ক খোলার দরকার নেই। মাস্কের চেন খুললেই কাজ হয়ে যাবে। যখন তখন বিড়ি বা সিগারেট সেই ফাঁক দিয়ে গলিয়ে সুখটান দিয়ে আবার চেন বন্ধ করে দিলেই হল। ভাইরাস থেকে রক্ষাও হল আবার আয়েশ করে ধূমপানও করা গেল।

কিন্তু, প্রশ্নটা হচ্ছে, এই মাস্কের চেন খুলে বিড়ি টেনে, ধোঁয়া গিলে আবার সেই মাস্কে মুখ ঢেকে ফেলাটা কতটা নিরাপদ। ধূমপায়ীরা যতই মনে মনে খুশি হন না কেন, এই পদ্ধতি কিন্তু মোটেই নিরাপদ নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিড়ি বা সিগারেট ধোঁয়া মাস্কের মধ্যেই থেকে যাচ্ছে। সেই মাস্ক আবার নাক-মুখে এঁটে বসে আছে। কাজেই মাস্কে বন্দি ধোঁয়া সটান ফুসফুসে ঢুকে আরও বড় বিপদ বয়ে আনতে পারে।

করোনা থেকে বাঁচতে মুখে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। রাস্তায় বের হলে তো অবশ্যই। এই মাস্ক যেমন ভাইরাস থেকে বাঁচাচ্ছে তেমনি সারাক্ষণ মুখে মাস্ক সেঁটে রেখে বিরক্তিও বাড়ছে। ডাক্তাররা বার বার বলেছেন, যখন তখন হাত দিয়ে মাস্কে নাড়াঘাঁটা করলে চলবে না। হাত স্যানিটাইজ করে নিতে হবে না হলে হাতের ধুলোময়লা মাস্কে ঢুকে আরও বিপত্তি বাঁধাবে। মাস্ক-কালে তাই বাড়তি সুযোগ পেতে অনেকেই এই চেন টানা মাস্কের দিকে ঝুঁকছেন। এমন মাস্ক আগেও দেখা গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ছবি ভাইরালও হয়েছে। মাস্কের চেন খুলে হুড়হুড়িয়ে কথা বলা বা তেষ্টা পেলে চট জল খেয়ে নেওয়া অবধি ঠিক আছে। তাই বলে বিড়ি বা সিগারেট খাওয়াটা মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

ধূমপায়ীদের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসবে কেন?

তার কারণ অনেক। প্রথমত, বিশেষজ্ঞরা বলেন, ধূমপান করার অন্তত ৬-৭ মিনিট পরে মাস্ক পরা উচিত। কারণ সিগারেট বা বিড়ির ধোঁয়া কম করেও ৬ মিনিট থেকে যায়। এখন সিগারেট টেনেই যদি মুখে মাস্ক পরে নেওয়া হয়, তাহলে এই ধোঁয়া সরাসরি ফুসফুসে গিয়ে আঘাত করে। এবার যদি চেন টানা মাস্ক হয়, তাহলে সেটা মুখে পরেই ধূমপান করা হচ্ছে। শুধু তাই নয় ভিডিওতে ওই ব্যক্তি যেমন দেখিয়েছেন যে বিড়ি টানা শেষ হতেই সঙ্গে সঙ্গে চেন টেনে দিচ্ছেন তিনি। তার মানে হল ধোঁয়াটা মাস্কের ভেতরেই থেকে গেল। এর খারাপ ফল কতটা হতে পারে সেটা আর আলাদা করে বলার কিছু নেই। মাস্কের ভেতরে ধোঁয়া নাক, মুখ দিয়ে ঢুকে যাচ্ছেতাই কাণ্ড ঘটাবে শরীরে।

দ্বিতীয়ত, বিশেষজ্ঞরা বারে বারেই বলছেন ধূমপানে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। ধূমপায়ীদের ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেশি। কেন? তারও অনেক কারণ।  লাগামছাড়া ধূমপানে ফুসফুস দুর্বল হয়। আর করোনাভাইরাস  যেহেতু ফুসফুসের কোষেই প্রথম সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করে, তাই শরীরের এই অঙ্গটি দুর্বল হওয়া মানেই ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার সংক্রমণেই ফুসফুসের জটিল রোগ তথা সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হচ্ছে রোগী। তাই ফুসফুসের ক্ষতি করে এমন যে কোনও নেশার জিনিসই এই সময় মারাত্মক হতে পারে।  শ্বাসনালীর সংক্রমণ, শুকনো কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা থেকে নিউমোনিয়া, ধূমপানের ক্ষতিকর দিক অনেক। তাই দেখা গেছে সিগারেটে আসক্তি যাঁদের বেশি, তাঁরাই অ্যাকিউট রেসপিরেটারি ডিসট্রেস সিনড্রোমে বেশি আক্রান্ত হন।

রিস্ক-ফ্যাক্টর আরও আছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাত দিয়ে সিগারেটের ফিল্টার ধরা হচ্ছে, সেখান থেকে ছড়াতে পারে সংক্রমণ। একই ফিল্টারে যদি অনেকে মুখ দেন, তাহলেও লালার মাধ্যমে ভাইরাস ড্রপলেট ছড়াতে পারে।  এমনও বলা হচ্ছে, যিনি ধূমপান করছেন তাঁর শরীরে যদি ভাইরাস থাকে তাহলে ধোঁয়ায় বা ধূমপায়ীর লালার কণার ভর করে সেই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে আশপাশে। অ্যারোসল বা বাতাস বাহিত কণায় এই ভাইরাস চার ঘণ্টারও বেশি বেঁচে থাকতে পারে বলে মন বিভিন্ন বিজ্ঞানীর।

অতএব করোনা কালে ধূমপান বা তামাকের নেশা যতটা সম্ভব কমিয়ে ফেলাই স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। আর চেন টানা মাস্ক মুখে সেঁটে চেন খুলে যখন তখন সিগারেট, বিড়িতে সুখটান দেওয়াও নৈব নৈব চ।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More