জোড়া ধাক্কা তৃণমূলের, এদিকে শুভেন্দুর ইস্তফা, ওদিকে মিহির দিল্লিতে, প্রথম বিধায়ক গেরুয়া পথে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবারে জোড়া ধাক্কা তৃণমূলে।

এদিন সকালে দলের অন্যতম দাপুটে নেতা যখন মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই আবার দেখা গেল কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক তৃণমূল মিহির গোস্বামী দিল্লিতে। কোচবিহারের বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামাণিকের সঙ্গে দিল্লি পৌঁছে গিয়েছেন মিহির।

কথায় বলে, রাজনীতিতে ইশারাই যথেষ্ট। ফলে দিল্লিতে মিহিরবাবুর উদয় ও সাংসদ সঙ্গ দেখে মনে করা হচ্ছে বিজেপির পথেই পা বাড়িয়েছেন তিনি। তা যদি হয়, তবে বলা যেতে পারে ভোট মরশুমে তৃণমূল থেকে প্রথম কোনও বিধায়ক রওনা হলেন বিজেপির উদ্দেশে।

গত দেড় মাস ধরেই বোঝা যাচ্ছিল মিহিরবাবু তৃণমূল ছাড়বেন। প্রথমে সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। তারপর একের পর এক ফেসবুক পোস্টে দল নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। তাও তাঁকে আটকে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, অনন্ত রায় বর্মণরা। কিন্তু শেষমেশ আটকানো গেল না।

কয়েক সপ্তাহ আগেই মিহির গোস্বামী সরাসরি লেখেন দলের লাগাম আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে নেই। তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলে লিখেছিলেন, “এ দল এখন আর আমার দিদি-র দল নয়, দিদি এখানে নিস্পৃহ। তাই ‘দিদির লোক’ এখানে অপ্রয়োজনীয় ও গুরুত্বহীন। অন্যায্য সবকিছু মেনে নিয়ে ‘যো হুজুর’ করে টিকে থাকতে পারলে থাকো, নয়ত তফাৎ যাও।”

মিহির গোস্বামী আরও বলেন, অনেক অপমান সহ্য করেও তিনি টিকেছিলেন তার একমাত্র কারণ দিদি। তাঁর কথায়, “আমার দল আর আমার নেত্রীর হাতে নেই, অর্থাৎ এই দল আর আমার নয়, হতে পারে না। শ্যামা মায়ের আরাধনা লগ্নে আমার এই অনুমান আরও দৃঢ় হয়েছে। তাই এই দলের সঙ্গে সমস্ত রকমের সম্পর্ক ছিন্ন করাটাই কি স্বাভাবিক নয়?”

এখনেই থামেননি কোচবিহার দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক। তিনি ওই পোস্টে দাবি করেন, দলের অভিধান থেকে সম্মান শব্দটাই বেমালুম উবে গেছে। তবে কার যো হুজুর হয়ে থাকার কথা মিহিরবাবু বলেছেন তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। যদিও তৃণমূলের অনেকে বলছেন, মিহির গোস্বামী যা বলতে চেয়েছেন তা বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না।

শোনা যায় শুভেন্দুর মূল আপত্তির জায়গা হল প্রশান্ত কিশোর। মিহির গোস্বামীও একই বক্তব্য প্রকাশ্যে বলেছিলেন। তাঁর সাফ কথা ছিল কে প্রশান্ত কিশোর? যে তাঁর কথা শুনে পার্টি করতে হবে?

সব ছেড়ে মিহির গোস্বামী হয়তো দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে নতুন ফ্রেম তৈরি করতে চলেছেন!

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More