‘ভরসা নেই’, সুদীপ জৈনের অপসারণ চেয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি তৃণমূলের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা উপ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুদীপ জৈনের অপসারণ চেয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠাল তৃণমূল কংগ্রেস। বাংলার শাসক দলের অভিযোগ, পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন সুদীপ জৈন। তাই তাঁর উপর ভরসা রাখতে পারছে না তৃণমূল।

এদিন তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক চলাকালীন এই চিঠির কথা উল্লেখ করেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তিনি জানান, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরাকে এই চিঠি লিখেছেন।

কমিশনকে লেখা চিঠিতে মূলত দুটি বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছে তৃণমূল। একটি হল ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মিছিল চলাকালীন কলকাতায় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার ঘটনা। সেই ঘটনায় বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু সুদীপ জৈন নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি পক্ষপাতমূলক রিপোর্ট পেশ করেন। তার ফলে একদিকে যেমন দোষীদের সাজা হয়নি অন্যদিকে তেমনই নির্বাচনের আগে দু’দিন প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়। একমাত্র বিজেপিকেই তার আগে প্রচার শেষ করার অনুমতি দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় কারণ হিসেবে তৃণমূল ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় কুইক রেসপন্স টিম নিয়ে অভিযোগ করেছে কমিশনের কাছে। তাদের অভিযোগ, লোকসভা নির্বাচনের আগে কুইক রেসপন্স টিম তৈরি করেন সুদীপ জৈন। সেই দলে ছিল সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্স বা সিএপিএফ আধিকারিকরা। টিমের দায়িত্বে ছিলেন একজন সিএপিএফ অফিসার।

তৃণমূলের অভিযোগ, এই টিম রাজ্য পুলিশকে নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে। কিন্তু এই ধরণের কোনও নিয়ম সংবিধানে নেই। এটা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী। তার ফলে রাজ্য পুলিশ ও সিএপিএফ-এর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব হয়। এই সিদ্ধান্ত ভুল বুঝতে পেরে নির্বাচন কমিশনই পরে কুইক রেসপন্স টিমের দায়িত্ব থেকে ওই সিএপিএফ আধিকারিককে সরিয়ে দেয়।

সৌগতবাবু জানিয়েছেন, সুদীপ জৈনের এই কর্মকাণ্ড থেকে পরিষ্কার তিনি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করেন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি অবাধে নির্বাচন করাতে পারবেন না বলেই আশঙ্কা তৃণমূলের। তাঁর উপর ভরসা নেই তাঁদের। তাই তাঁরা চান নির্বাচনের আগেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক সুদীপ জৈনকে। সেই আর্জিই তাঁরা চিঠি লিখে জানিয়েছেন কমিশনে।

এখন দেখার এই চিঠির জবাবে নির্বাচন কমিশনের তরফে কী জানানো হয়।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More