শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৬

তৃণমূল বিধায়ক খুনে এফআইআর মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে, গ্রেফতার ২, পরিকল্পনা করেই খুন, সন্দেহ পুলিশের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনে গ্রেফতার করা হয়েছে ২ জনকে। ধৃতদের নাম সুজিত মণ্ডল ও কার্তিক মণ্ডল। দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের পরেই দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। নদিয়া জেলার তৃণমূলের সভাপতি গৌরীশঙ্কর দত্ত জানিয়েছেন, বিজেপি নেতা মুকুল রায় সহ চারজনের নামে থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার সন্ধেবেলা হাঁসখালি ব্লকের বগুলার ফুলবাড়ি এলাকায় একটি সরস্বতী পুজোর উদ্বোধন করতে গিয়ে আততায়ীর গুলিতে খুন হন তৃণমূল বিধায়ক তথা মতুয়া নেতা সত্যজিৎ বিশ্বাস। শনিবার রাতেই কলকাতা থেকে সিআইডির বিশেষ টিম আসে ঘটনাস্থলে। রাতেই ঘটনাস্থলে আসেন ডিআইজি এম আর বাস্তব বৈদ্য। এসে পৌঁছন সিআইডি’র আইজি অজয় কুমার। রবিবার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। ঘটনাস্থল থেকে বাজেয়াপ্ত হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যালেস্টিক পরীক্ষা করে দেখা হবে বলে খবর। এছাড়াও তদন্তকারীদের সঙ্গেও কথা বলবেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা।

এ দিকে এই খুনের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার জন্য হাঁসখালি থানার অফিসার ইন-চার্জ অনিন্দ্য বসুকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সাসপেন্ড করা হয়েছে সত্যজিৎবাবুর দেহরক্ষী প্রভাস মণ্ডলকেও। তাঁর বিরুদ্ধে বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান থেকে এটা পরিষ্কার, অনেক পরিকল্পনা করেই এই খুন করা হয়েছে। কারণ বিধায়ক হওয়ায় একজন সর্বক্ষণের দেহরক্ষী পেতেন সত্যজিৎ বিশ্বাস। কিন্তু সেই দেহরক্ষী প্রভাস মণ্ডল দু’দিন আগে ছুটি নিয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন,যে সরস্বতী পুজোর উদ্বোধন করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন এই বিধায়ক, সেখানে বারবার লোডশেডিং হচ্ছিল। এ ছাড়াও বিধায়কের জন্য কোনও পুলিশি বন্দোবস্তও ছিল না সেখানে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ অভিজিৎ পুন্ডারী নামে এলাকার এক যুবক তাঁকে একেবারে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে। গুলি করে সোজা চম্পট দেয় আততায়ী। এরপর উত্তেজিত জনতা অভিজিতের বাড়ি ভাঙচুর করে ও আগুন ধরিয়ে দেয়। সত্যজিৎ বিশ্বাস তৃণমূলের যুবদলের সভাপতি ছিলেন। ২০১৫ সালে কৃষ্ণগঞ্জের বিধায়ক সুশীল বিশ্বাস মারা যাবার পর ২০১৬ সালে সত্যজিৎবাবু সেখান থেকে নির্বাচিত হন তিনি। এলাকার দাপুটে নেতা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন বছর ৪০-এর এই বিধায়ক।

এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় রয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী। বসানো হয়েছে পুলিশ পিকেট। বিধায়ক খুনের পর থেকেই তৃণমূল-বিজেপি চাপানউতোর তুঙ্গে। তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি গৌরীশঙ্কর দত্ত সরাসরি আঙুল তুলেছেন মুকুল রায়ের দিকে। তাঁর অভিযোগ, “এই খুন করিয়েছে বিজেপি। এর পিছনে রয়েছে মুকুল রায়। তাঁর নির্দেশেই দুষ্কৃতীরা গুলি চালিয়েছে।“ একই দাবি তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়েরও। তিনি বলেছেন, দলের কিছু গদ্দার এই খুন করিয়েছে। তাদের ছাড়া হবে না।”

অন্যদিকে তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে পাল্টা গৌরীশঙ্করকেই বিধায়ক খুনে দায়ি করেছেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। বলেছেন, “কোনও কারণ ছাড়াই আমার নাম নেওয়া হচ্ছে। সত্যজিৎ বাচ্চা ছেলে, খুব ভালো ছেলে। তাঁর মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। প্রয়োজনে সিবিআইকে দিয়ে তদন্ত করানো হবে।” সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছেন বিজেপি জেলা সভাপতি দিলীপ ঘোষও। তাঁর কথায়, “কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করানো হোক। ঘটনার সত্য সামনে আসবে।”

রবিবার হাঁসখালিতে গিয়ে পৌঁছেছেন তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, দক্ষ ও জনপ্রিয় এই নেতার খুনের পিছনে যাঁরা দায়ী, তাঁদের কোনও মতেই ছাড় দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুন

গাড়ি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মুখ্যমন্ত্রীর ভাই

Shares

Comments are closed.