উত্তীর্ণর সেফ হোমে চালু হচ্ছে ২৫টি অক্সিজেন পার্লার, শ্বাসবায়ুর অভাব মেটাতে পদক্ষেপ কলকাতা পুরসভার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে একাধিক কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে কলকাতা পুরসভা। শহরে একাধিক সেফ হোম ও কোয়ারেন্টাইন সেন্টার চালু করা হয়েছে। সেফ হোমগুলিতে করোনা রোগীদের জন্য অক্সিজেন বেডের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। দিনকয়েক আগেই উত্তীর্ণ ভবনে সেফ হোম খোলা হয়েছে। এবার সেখানে অক্সিজেন পার্লার চালু করার কথা ঘোষণা করেছেন রাজ্যের বিদায়ী পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। জানা গিয়েছে, আগামীকাল থেকেই চালু হবে অক্সিজেন পার্লারগুলি।

উত্তীর্ণর সেফ হোমে ২৫টি অক্সিজেন পার্লার খোলা হচ্ছে। আজ সেখানে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি জানান, অক্সিজেন পার্লারগুলিতে ২৪ ঘণ্টা মেডিক্যাল অক্সিজেনের সরবরাহ থাকবে। পাশাপাশি, সেফ হোমে অক্সিজেন বেডের ব্যবস্থাও থাকছে। সঙ্কটাপন্ন কোভিড রোগীদের যাতে অক্সিজেনের অভাব না হয় সে পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। কোনও রোগীর যদি শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় তাহলে তাকে শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে পাঠানো হবে।

পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, কোনও কোভিড রোগীর মেডিক্যাল অক্সিজেন দরকার পড়লে এই পার্লার থেকে নিতে পারবেন। যদি এমন রোগী থাকেন যাঁদের আচমকা শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছে, অক্সিজেন নিলেই অবস্থার উন্নতি হবে তাঁরাও পার্লার থেকে অক্সিজেনের সুবিধা পাবেন। এমনকি অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের অক্সিজেনের অভাব হলে, এই সেফ হোমের পার্লার থেকে মেডিক্যাল অক্সিজেন সরবরাহ করা হবে।

দেশের অন্যান্য রাজ্যেের মতো বাংলায় মেডিক্যাল অক্সিজেনের অভাব এখনও ততটা হয়নি। আগামীদিনে যাতে অক্সিজেনের অভাবে সঙ্কটাপন্ন কোভিড রোগীকে প্রাণ দিতে না হয়, তার জন্য রাজ্যে ৫৫টি অক্সিজেন প্ল্যান্ট বসানোর প্রস্তুতি চলছে। গত কয়েক মাসে সরকারি উদ্যোগে মহকুমা স্তর অবধি ১০৫টি সরকারি কোভিড হাসপাতালে পাইপলাইন বসিয়ে অক্সিজেন সরবরাহ করার প্রক্রিয়া সুনিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারি তরফে জানানো হয়েছে, অক্সিজেনের অভাবে রোগী মৃত্যু ঠেকাতে ১৫ মে-র মধ্যে আরও ৪১টি সরকারি হাসপাতালে গ্যাস পাইপলাইন বসানো হবে। এই পাইপলাইন বসলে আরও তিন হাজার রোগীকে অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তাছাড়া রাজ্যের বড় কয়েকটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য তরল অক্সিজেনের জোগান দিতে পিএসএ প্ল্যান্ট বসানোরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্ল্যান্টগুলিতে তৈরি হবে লিকুইড মেডিক্যাল অক্সিজেন (এলএমও)। সরকারি তরফে জানানো হয়েছে, হাসপাতালগুলিতে পিএসএ প্ল্যান্ট বসলে বাণিজ্যিক অক্সিজেনের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে। হাসপাতালগুলি নিজেদের চাহিদা মতো মেডিক্যাল অক্সিজেন তৈরি করে নিতে পারবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More