পরকীয়ার অভিযোগে কেশপুরে পিটিয়ে মারা হল প্রৌঢ়াকে, গ্রাম পুরুষশূন্য, অভিযুক্তদের খুঁজছে পুলিশ

কাকা ও ভাইঝির ‘সম্পর্ক’ নিয়ে কানাঘুষো শুরু দু’বছর আগে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেশপুরের উপরঘুচিশোলে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে এক প্রৌঢ়াকে পিটিয়ে মারা হল। তাঁর নাম মালতি মুর্মু, বয়স পঞ্চান্ন বছর। তিনি একাই থাকতেন। সম্পর্কে কাকা সনাতন হাঁসদার সঙ্গে পরকীয়া ছিল বলে অভিযোগ। কিসের ভিত্তিতে এই অভিযোগ সে বিষয়ে কথা বলছেন না গ্রামের লোকজন। আহত সনাতন হাঁসদাকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কেশপুরের জোড়াকেঁউদি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপরঘুচিশোল গ্রামের বাসিন্দা মালতি মুর্মু ও সনাতন হাঁসদা। সম্পর্কে তাঁরা কাকা ও ভাইঝি, তবে বয়সের খুব একটা পার্থক্য নেই। মালতির চেয়ে বছর সাত-আটের বড় সনাতন। বছর দুয়ের আগে গ্রামে রটে যায় যে তাঁদের মধ্যে ‘সম্পর্ক’ রয়েছে। এরপরে গ্রামের কয়েক জন যুবক তাঁদের সতর্ক করে। মাস পাঁচেক আগে এনিয়ে একটি সালিসি সভাও বসে, তখন দু’জনকেই জরিমানা করা হয়। অভিযোগ, তার পরেও বন্ধ হয়নি তাঁদের মেলামেশা।

অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে বিশাল পুলিশ বাহিনী

বৃহস্পতিবার রাতে দু’জনকে এক জায়গায় পেয়ে বেধড়ক মারধর করে গ্রামের যুবকরা। জনা ছয়েক যুবক প্রথমে চড়াও হয় সনাতনের উপরে, পরে তাকে ছেড়ে দিয়ে পেটাতে শুরু করে মালতিকে। তখন এলাকার কয়েকজন লোক এসে বাধা দিলে ওই যুবকরা তাঁদের সরিয়ে দেয়। এই সুযোগে সনাতন পালিয়ে যান। যুবকরা ফের পেটাতে শুরু করে মালতিকে।

দুই পরিবারের দাবি, কোনও পরিবারের কেউ নয়, মারধর করেছে গ্রামের যুবকরা। তবে কারা গণপ্রহারে যুক্ত সেব্যাপারে কেউ মুখ খুলছেন না। শুক্রবার সকালে গ্রামে পৌঁছয় পুলিশ। আতঙ্কে পুরুষশূন্য হয়ে গেছে গোটা গ্রাম। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More