মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে বাবার কথা মনে পড়ছে, কেন বললেন অধীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চির প্রতিপক্ষ তিনি। এ ব্যাপারে আপোসহীন এবং ষোল আনা খাঁটি বলেই লোকে জানেন। সেই তিনি অধীর চৌধুরী শুক্রবার হঠাৎ যখন বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে আমার বাবার কথা মনে পড়ছে—অনেকেই বিস্মিত হন! ভাবেন আরে হলটা কী!

কিন্তু না! অধীররঞ্জন রয়েছেন অধীররঞ্জনেই। বরং বক্তৃতায় আরও সরেস ও খোলামেলা। তিনি বলেন, আমি বেশিদূর পড়াশুনা করিনি। সাড়ে নাইন পাশ। পড়াশুনা করতে চাইতাম না। সে জন্য বাবা বেধড়ক মারত। পরীক্ষার আগে যখন পড়া পারতাম না তখন মাস্টারমশাইও মারতেন। সেই ভয়ে যখন হুমড়ি খেয়ে পড়তে বসতাম, তখন বাবা আবার মারত। বলত, হারামজাদা সারা বছর পড়াশুনা করিসনি। এখন পরীক্ষার আগে খেয়াল হয়েছে!

এর পরই অধীরবাবু বলেন, সেই কারণেই বাবার কথা মনে হল। দশ বছর ক্ষমতায় থাকার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এখন মনে পড়েছে কিছু পড়া করেননি। ভোটের আগেই তাই দুয়ারে সরকারকে নিয়ে যেতে হচ্ছে, পাড়ায় পাড়ায় সমাধানের কথা বলতে হচ্ছে। আরে এ ভাবে কি পাশ করা যায়!

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অধীরবাবু বরাবরই অকপট। এই যে তিনি এদিন বলেছেন, আমি সাড়ে নাইন পাশ, সেটা নির্বাচনের এফিডেভিটেও লেখেন। লোকসভার ওয়েবসাইটে শিক্ষাগত যোগ্যতার স্থানে এক সময়ে তা লেখা ছিল।

রাজনীতিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা অনেকেরই খুব বেশি নয়। তবে অধীরবাবুকে যাঁরা কাছ থেকে চেনেন, তাঁরা জানেন ছাত্রাবস্থায় পড়াশুনায় মন না থাকলেও সাংসদ হওয়ার পর কম লেখা পড়া করেননি তিনি। কোনও প্রথাগত শংসাপত্র নেননি। কিন্তু নিয়মিত বিদেশি জার্নাল পড়েন। লোকসভার প্রসিডিংস পড়েন। তার কোনওটা অর্থনীতি সংক্রান্ত কোনওটা বিদেশ নীতি সংক্রান্ত কোনওটা বা সায়েন্স জার্নাল। সংসদে তাঁর বক্তৃতা শুনলেও তার আঁচ পাওয়া যায়।

তৃণমূলের রাজ্যসভার এক সাংসদের কথায়, রাজনৈতিক ভাবে আমরা প্রতিপক্ষ ঠিকই। কিন্তু সংসদের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে যখন অধীর চৌধুরী আসেন, সব থেকে বেশি ব্যাকগ্রাউন্ট নোট পড়ে আসেন তিনি। ওঁর অধ্যাবসয়ের কোনও তুলনা নেই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More