আইএসের সঙ্গেই কাবুল গুরুদ্বার হামলায় যোগ রয়েছে তালিবান হাক্কানি গোষ্ঠীর, জানাল আফগান তদন্তকারী সংস্থা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাবুলের গুরুদ্বার হামলায় উঠে এল তালিবান যোগ। খোরাসান প্রদেশের ইসলামিক স্টেট জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে গুরুদ্বার হামলায় যোগ ছিল তালিবানের শাখা সংগঠন হাক্কানির, এমনটাই দাবি করেছে আফগানিস্তানের তদন্তকারী সংস্থা ন্যাশনাল ডিরেক্টোরেট অব সিকিউরিটি (এনডিএস)।

বিশ্বজোড়া করোনা আতঙ্কের মধ্যেই জঙ্গি হামলায় কেঁপে উঠেছিল আফগানিস্তান। গত ২৫ মার্চ কাবুলের ওল্ড সিটি এলাকার শোরাবাজারের গুরুদ্বারে জঙ্গি হামলায় প্রাণ যায় এক শিশু-সহ ২৭ শিখ পুণ্যার্থীর। ওই হামলার দায় স্বীকার করে ইসলামিক স্টেট। হামলায় নাম জড়ায় কেরলের বাসিন্দা আবু খালিদ অল-হিন্দি ওরফে মহম্মদ মহসিনের। গত মাসে আফগানিস্তানের স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স গ্রেফতার করে এই হামলার অন্যতম চক্রী ইসলামিক স্টেটের খোরাসান প্রদেশের ‘আমির’ মাওলাওয়ি আবদুল্লা ওরফে আসলাম ফারুকিকে।

কাবুল ও দিল্লির সন্ত্রাসবাদ দমন সংস্থাগুলি জানিয়েছে,  খোরাসান প্রদেশের ইসলামিক স্টেটই শুধু নয়, এই হামলার পিছনে মাথা রয়েছে হাক্কানি নেটওয়ার্কেরও। এনডিএস জানিয়েছে, আফগান বাহিনীর সঙ্গে যৌথ অভিযানে এখনও অবধি ওই হামলায় জড়িত পাঁচ জঙ্গিকে খতম করা হয়েছে। গ্রেফতার আরও আট। তদন্তে জানা গেছে, গুরুদ্বারে হামলার আগে একসঙ্গেই এই নাশকতার ছক কষে খোরাসানের ইসলামিক স্টেটের মাথা  আসলাম ফারুকি ও হাক্কানি নেটওয়ার্কের সিরাজউদ্দিন হাক্কানি। এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক বিবাদ থাকলেও, বড় নাশকত ঘটানোর আগে অনেকবারই তাদের যৌথভাবে কাজ করতে দেখা গেছে। ফারুকি এই হামলা চালানোর জন্য মহম্মদ মহসিনকে নিয়োগ করে। মহসিন কেরলের বাসিন্দা। ইসলামিক স্টেটের সক্রিয় সদস্য। তাকে সাহায্য করার জন্য ছিল আরও তিন জঙ্গি। কেরলের কান্নুর জেলার চেক্কিকুলাম এলাকার বাসিন্দা এই জঙ্গির উপর ২০১৭ সাল থেকে নজর ছিল দেশের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার। ইসলামিক স্টেট পরিচালিত একাধিক জঙ্গি কারযকলাপে নাম জড়িয়েছে মহসিনের।

ঘটনার দিন সকালে শোরাবাজারের গুরুদ্বারে হামলা চালায় জঙ্গিরা। শুরু হয় লাগাতার বোমাবাজি। জঙ্গিরা পণবন্দি করে ফেলে প্রায় দেড়শো জন শিখ পুণ্যার্থীকে। তাদের মধ্যে ছিল শিশুরাও। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় আফগান বাহিনী। ঘণ্টা ছয়েক দু’পক্ষের গুলির লড়াইয়ের পরে জঙ্গি-মুক্ত হয় গুরুদ্বার। আফগান বাহিনীর তরফে জানানো হয়, গুলির লড়াইয়ে চার জঙ্গিই খতম হয়েছে।

এই জঙ্গি নাশকতায় কোন কোন সংগঠনের হাত রয়েছে সেই নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। তালিবান যোগের কথা প্রথমে উঠলেও পরে তদন্তকারীরা জানান এই নাশকতার দায় নিয়ে আইসিস। কিন্তু এখন এনডিএস জানাচ্ছে, ইসলামিক স্টেট একা নয় তালিবান হাক্কানি গোষ্ঠীও রয়েছে এই হামলার পিছনে। যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে তালিবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ টুইট করে বলেছেন, “আইসিসের সঙ্গে আমাদের কোনও যোগ নেই। বরং তাদের আমরা দেশ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছি।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More