নবমীর রাত, দশমীর সকালে পরপর বাইক দুর্ঘটনা কলকাতায়, বেপরোয়া গতির বলি ২

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজোর কলকাতায় বেপরোয়া গতির বলি ২। নবমীর রাতে মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের। দশমীর সকালে মারা গিয়েছেন আরও একজন।

পুলিশ সূত্রে খবর, নবমীর রাতে বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়েছিলেন এক যুবক। গতকাল রাত আড়াইটে নাগাদ বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের কাছে দুর্ঘটনা হয় বছর ২৯-এর ওই যুবকের। দ্রুত গতিতে বাইক চালাচ্ছিলেন ওই যুবক। কোনওভাবে স্কিড করে বাইক থেকে পড়ে যান তিনি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। গুরুতর ভাবে জখম হয়েছেন যুবকের সঙ্গে থাকা তরুণীও। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায় তারা। আহত তরুণীকেও হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত যুবক বা আহত তরুণীর কেউই হেলমেট পড়ে ছিলেন না।

অন্যদিকে আজ সকালে আর একটি দুর্ঘটনা হয়েছে মানিকতলা এলাকায়। দশমীর ভোরে মানিকতলায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে একটি বাইক। গুরুতর জখম হন বাইকের দুই আরোহী। আহত অবস্থায় তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে বাইকের চালককে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। আর এক আরোহীর চোটও বেশ গুরুতর বলে খবর। পুলিশ জানিয়েছে, এক্ষেত্রেই দু’জনের কারও মাথাতেই হেলমেট ছিল না।

প্রসঙ্গত, প্রতি বছর পুজোতেই একই ঘটনা ঘটে কলকাতায়। পুজোর দিনে শহরের বুকে বেপরোয়া গতির বলি হন অনেকে। যদিও বাইক চালানোর সময় হেলমেট পরার ব্যাপারে বারবার সতর্ক করেন দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশরা। রয়েছে নিয়মের কড়াকড়ি। নিয়ম ভাঙলে শাস্তির ব্যবস্থাও করা হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও শহরের রাস্তায় বেপরোয়া বাইক রোখা সম্ভব হয়নি। এমনকি বাইক পরার ব্যাপারে পুলিশ বারবার সতর্ক করলেও বিশেষ লাভ হয় না। তারই জেরে পুজোর দিনে ফের কলকাতার রাস্তায় মৃত্যু হয়েছে ২ যুবকের।

এর আগে ষষ্ঠীর দিন ভোরবেলাতে ৬টা নাগাদ ভয়াবহ বাইক দুর্ঘটনা হয়েছিল বিজন সেতুতে। বরাত জোরে প্রাণে বেঁচে গেলেও মারাত্মক ভাবে জখম হন ২ যুবক। চিকিৎসার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁদের। পুলিশ জানিয়েছিল, বিজন সেতুর উপর বাইকটি স্কিড করে। বৃষ্টি হওয়ার কারণে রাস্তা একটু পিছল। আর বাইকের গতি অস্বাভাবিক বেশি থাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি স্কিড করে। দুই যুবকই কিছুটা দূরে ছিটকে যান। জানা যায়, ডিভাইডারে ধাক্কা লেগে বাইকটি স্কিড করে। দুই বাইক আরোহীর মধ্যে একজনের মাথা ডিভাইডারে লেগে থেঁতলে যায়। গুরুতর চোট পান আর একজন যুবকও। পুলিশের অনুমান, সম্ভবত মদ্যপ ছিলেন দুই যুবক। মদের নেশা, পিছল রাস্তা আর বাইকের অস্বাভাবিক দ্রুত গতি, সবের জেরেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্কিড করে বাইকটি। ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More