অ্যাস্ট্রজেনেকার সমস্ত টিকার ডোজ কিনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের, ব্রিটেনের আগেই ভ্যাকসিন পেতে পারে আমেরিকা

সম্প্রতি শোনা গেছে, ব্রিটিশ সুইডিশ ফার্ম অ্যাস্ট্রজেনেকা যে পরিমাণ টিকার ডোজ তৈরি করবে তার পুরোটাই নাকি কিনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার প্রতি নাগরিক করোনার টিকা পাবে। আগামী বছর ৩০ কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ চলে আসবে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এমনটাই ঘোষণা করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শোনা গিয়েছিল, কোভিড ভ্যাকসিনের ট্রায়ালে যে সংস্থাগুলি এগিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলে টিকার ডোজ আগেভাগেই বুক করে রাখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সম্প্রতি শোনা গেছে, ব্রিটিশ সুইডিশ ফার্ম অ্যাস্ট্রজেনেকা যে পরিমাণ টিকার ডোজ তৈরি করবে তার পুরোটাই নাকি কিনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প।

করোনা টিকার তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল করছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকা। বছর শেষের আগেই টিকার সেফটি ট্রায়ালের রিপোর্ট ভ্যাকসিন রেগুলেটরি কমিটিকে দিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিল অ্যাস্ট্রজেনেকা। ব্রিটেনে যত ভ্যাকসিন তৈরি হচ্ছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকাই। শোনা গেছে, বরিস জনসন সরকার ১০ কোটি টিকার ডোজের জন্য প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে।

অ্যাস্ট্রজেনেকার মুখপাত্র জানিয়েছেন, কোভিড ভ্যাকসিনের ডোজ কেনার জন্য কথাবার্তা চলছে আমেরিকার সঙ্গে। তাঁর দাবি, আমেরিকার রেগুলেটর কমিটি যদি আগে টিকার ডোজ বুক করে দেয় তাহলে আমেরিকাকে তা দিতে তারা বাধ্য। সেদিক দিয়ে দেখতে গেলে, ব্রিটেনের আগেই অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকার ডোজ চলে যাবে আমেরিকায়।

নভেম্বরের পেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই করোনার টিকা আনার কথা বলেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্ডি অ্যান্ড ইনফেকশিয়াস ডিজিজের প্রধান অ্যান্থনি ফৌজিও বলেছিলেন, বছর শেষের আগেই টিকা চলে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।  আমেরিকার কোনও ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থাই এখনও অবধি টিকা নিয়ে আসার টাইমলাইন দেয়নি। প্রথমবার মার্কিন ফার্মা জায়ান্ট ফাইজার জানিয়েছে,  নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহেই টিকার ডোজ নিয়ে আসতে চায় তারা। ক্নিনিকাল ট্রায়ালের রিপোর্ট তার আগেই জমা করা হবে। টিকার পর্যাপ্ত উৎপাদনের পরিকাঠামোও তৈরি। বেশি সংখ্যক মানুষকে যাতে টিকার ডোজ দেওয়া যায় সে চেষ্টা করা হচ্ছে সংস্থার তরফে।

টিকার বন্টন অর্থের জোরে নয় বরং সংহতি মেনে করা উচিত, এমন দাবি উঠেছে বিশ্বজুড়েই। মাইক্রোসফট কর্তা বিল গেটস জানিয়েছিলেন, বড় বড় রাষ্ট্রনেতারা ক্ষমতা আর অর্থের জোরে আগে থেকেই টিকা কিনে রাখার পরিকল্পনা করেছেন, যার অর্থ গরিব ও পিছিয়ে পড়া দেশগুলিতে টিকার কোনও ডোজই পৌঁছবে না। সারা বিশ্বে টিকার সমবন্টন না হলে করোনা অতিমহামারীকে থামানো সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। ভ্যাকসিনের সমবন্টনের জন্য ‘কোভিড ভ্যাকসিন গ্লোবাল অ্যাকসেস’ তথা ‘কোভ্যাক্স’ কর্মসূচী তৈরি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)।তাদের সঙ্গে ভ্যাকসিন বন্টন ব্যবস্থার তত্ত্বাবধান করবে কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ারডনেস ইনোভেশন ও আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা গাভি। কোভ্যাক্সের উদ্দেশ্য হল চাহিদা অনুযায়ী সব দেশেই করোনার টিকা পৌঁছে দেওয়া, বিশেষত যে দেশগুলিতে সংক্রমণের হার ও মৃত্যু বেশি তাদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া। কোভ্যাক্স কর্মসূচীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, জার্মানি ও ইউরোপিয়ান দেশগুলিকে যোগ দেওয়ার আবেদন করেছিল হু। কিন্তু এই কর্মসূচীতে না থাকারই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। উল্টে হু-র সঙ্গে করোনা ভ্যাকসিন সংক্রান্ত কোনও কাজ না করার কথাই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More