টিকার দুই ডোজে রক্ষা নেই! তৃতীয় ‘বুস্টার’ ডোজ নেওয়ার কথা কেন বলছে ফাইজার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজেও নাকি রেহাই নেই। করোনাভাইরাস তার চরিত্র বদলে এতটাই মিউট্যান্ট (জিনের গঠন বিন্যাস বদল বা মিউটেশন) হয়ে গেছে যে এই ভাইরাল স্ট্রেন থেকে রক্ষা পেতে প্রতিষেধকের দ্বিতীয় ডোজের পরে তৃতীয় ডোজও নিতে হতে পারে। এমনটাই পরামর্শ দিলেন মার্কিন ফার্মা জায়ান্ট ফাইজারের ভাইরোলজিস্টরা। সম্পূর্ণ টিকাকরণের পরে অর্থাৎ প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া হয়ে গেলে, তার ছ’মাস থেকে এক বছর পরে এই তৃতীয় ডোজ নেওয়াটা খুবই দরকার। এই ডোজেই শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি আরও বাড়বে, এমনটাই দাবি ফাইজারের।The second dose—myths and realities | The Indian Express

ভ্যাকসিনের তৃতীয় ডোজ কেন দরকার?

করোনাভাইরাস শুরু তে যেমনটা ছিল এখন তার রূপ অনেকটাই পরিবর্তিত। বিশ্বজুড়েই ভাইরোলজিস্টরা বলছেন, সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেনে মিউটেশন বা জিনের গঠন বিন্যাস খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে। মানে মিউটেশন হচ্ছে পর পর, র‍্যাপিড। একবারে ২০০ বার জিনের গঠন বদলাতেও দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। স্পাইক প্রোটিনে অ্যামাইনো অ্যাসিডের কোডও বদলে যাচ্ছে। তাই ভাইরাল স্ট্রেন দিনে দিনে আরও ছোঁয়াচে, অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে। ফাইজারের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইরাসের জিনোম সিকুয়েন্স করে বা জিনের বিন্যাস সাজিয়ে যেমনটা দেখে ভ্যাকসিনের ফর্মুলা তৈরি হয়েছিল, সেই জিনের বিন্যাসই এখন বদলে গেছে। যদিও ভ্যাকসিনে কাজ হবে ঠিকই, কিন্তু সারা বছর সংক্রামক ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে শরীরের ইমিউনিটি সেই পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। এর জন্যই দরকার এই তৃতীয় ডোজ।

Will the COVID-19 Vaccine Need a Booster Shot? - What Experts Know

ফাইজার সিইও অ্যালবার্ট বোরলা বলছেন, ভ্যাকসিনের তৃতীয় ডোজ হবে ‘বুস্টার’, অর্থাৎ শরীরের ইমিউন পাওয়ার বা রোগ প্রতিরোধ শক্তিকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে। সাধারণত, ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ শরীরে ঢুকে ইমিউন কোষগুলোকে (বি-কোষ ও টি-কোষ) সক্রিয় করার চেষ্টা করে। দেহকোষে ভাইরাস প্রতিরোধী সুরক্ষা বলয় তৈরি করার জন্য ইমিউন কোষগুলোকে অ্যাকটিভ করা শুরু করে। দ্বিতীয় ডোজে এই কাজটাই সম্পূর্ণ হয়। বি-কোষ সক্রিয় হয়ে প্লাজমায় অ্যান্টিবডি তৈরি করে। অন্যদিকে, টি-কোষ বা টি-লিম্ফোসাইট কোষ সক্রিয় সংক্রামক কোষগুলিকে নষ্ট করতে শুরু করে। দুই ডোজের পরে যে অ্যান্টিবডি শরীরে তৈরি হয় তাই ভাইরাস থেকে সুরক্ষা দেয়। কিন্তু এই অ্যান্টিবডি কতদিন শরীরে টিকে থাকছে সেটাই হল আসল প্রশ্ন। বিজ্ঞানীরা কখনও বলছেন, করোনা প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তিন মাসের বেশি থাকছে না, ঝপ করে কমে যাচ্ছে। আবার কখনও দাবি করা হচ্ছে, অ্যান্টিবডি কম করেও সাত মাস টিকে থাকছে।

ফাইজারের বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, অ্যান্টিবডির স্থায়িত্বকাল যেহেতু কম তাই দুই ডোজে ভরসা না করে বুস্টার ডোজ দরকার। ভ্যাকসিনেশনের প্রায় এক বছর পরে যদি এই বুস্টার দেওয়া হয়, তাহলে আবারও শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হবে, আরও কয়েকমাস ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কোভিড রেসপন্স টিমের প্রধান ডেভিড কেসলার বলেছেন, আমেরিকাতে করোনা যেভাবে বাড়ছে তাতে তৃতীয় বুস্টার ডোজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। খুব তাড়াতাড়ি এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে পারে আমেরিকা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More