এ বার থেকে হোয়াটসঅ্যাপে উস্কানিমূলক মেসেজ পাঠালেই উৎস জেনে যাবে সরকার

 দ্য ওয়াল ব্যুরো: হোয়াটসঅ্যাপ এই মুহূর্তে ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বিতর্কিত মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম। বিতর্কিত, কারণ প্রায়ই হোয়াটসঅ্যাপে ভুল তথ্য ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষমূলক পোস্ট মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে গিয়ে সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনকে বিপদে ফেলে।

অতীতে কাশ্মীর-সহ ভারতের বিভিন্ন জায়গায় হোয়াটসঅ্যাপে গুজব ছড়িয়ে গণপ্রহারে মৃত্যু বা সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা কম ঘটেনি। পশ্চিমবঙ্গেও কিছুদিন  আগে হোয়াটসঅ্যাপে গুজব ছড়িয়েছিলো, বাংলার বাইরে থেকে আসা একদল মানুষ দুপুরে বাড়িতে ঢুকে মহিলাদের হত্যা করে কিডনি খুলে নিচ্ছে। এ নিয়ে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে গেছিলো।

এসব দেখেই ভারত সরকার হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষকে বলেছে আইনের প্রয়োজনে বিতর্কিত মেসেজের উৎস, মেসেজ প্রেরকের পরিচয় ও লোকেশন সরকারকে জানাতে।
.এই ব্যাপারে ইতিমধ্যেই ভারত সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি দফতরের মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ হোয়াটসঅ্যাপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিস ড্যানিয়েলের সঙ্গে কথা বলেছেন। দিল্লিতে হওয়া এই বৈঠকে ক্রিসকে তিনি জানিয়েছেন ভারত সরকারের বক্তব্য। মন্ত্রী হোয়াটসঅ্যাপকে ভারতের গ্রাহকদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগের সমাধান করার জন্য একজন গ্রিভ্যান্স অফিসার নিয়োগ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

বৈঠকের পর রবিশঙ্কর প্রসাদ সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, “কথা বলার সময় আমি হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজের উৎসের ওপর জোর দিয়েছি, সাধারণ গ্রাহকদের মেসেজের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করার কোনও অভিপ্রায় আমাদের নেই। আমরা দেখেছি, অনেক সময় হোয়াটসঅ্যাপের কিছু মেসেজ, বিভিন্ন ঘৃণ্য অপরাধ ও হিংসায় ইন্ধন যোগায়। তাই আমরা এই সমস্ত মেসেজ প্রেরককে সনাক্ত করা ও তাদের লোকেশন জানার ক্ষেত্রে জোর দিয়েছি।”

মন্ত্রী ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত হোয়াটস অ্যাপকে জানানোর সঙ্গে সঙ্গে হোয়াটস অ্যাপ ভারত সরকারের সমস্ত দাবি মেনে নিয়েছে। এবং ভারত সরকারের সব সব দাবি দ্রুত কার্যকর করা হবে বলেও হোয়াটসঅ্যাপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
দিল্লিতে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় হোয়াটসঅ্যাপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিস ড্যানিয়েল জানান, তাঁরা সাধারণ গ্রাহকের মেসেজের সুরক্ষা বা গোপনীয়তা লঙ্ঘন করবেন না।  এবং ভারতে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রাহকদের সুবিধার জন্য এ বছরের শেষেই তাঁরা ভারতে অফিস খুলবেন এবং একজন প্রশাসনিক প্রধান নিয়োগ করবেন।

এর আগে এ বছরের অগস্ট মাসে রবিশঙ্কর প্রসাদের সঙ্গে ড্যানিয়েলের কথা হয়েছিল। সে সময়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে হোয়াটসঅ্যাপকে বলা হয়েছিল ভারতে হোয়াটস অ্যাপের প্রতিনিধি নিয়োগ করতে। যাতে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তোলা হোয়াটসঅ্যাপ সম্পর্কিত বিভিন্ন অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি হয়। বিশেষ করে ভুয়ো মেসেজজনিত অভিযোগ। সেই সময়েই মন্ত্রী কোনও বিশেষ মেসেজের প্রথম প্রেরকের লোকেশন জানার দাবি জানিয়ে রেখেছিলেন।

হোয়াটসঅ্যাপ ভারত সরকারের দাবি মেনে নেওয়াটা ইতিবাচক বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। হোয়াটসঅ্যাপকে অপরাধের কাজে লাগিয়ে জনসাধারণকে আতঙ্কিত করা বা ভুল তথ্য দিয়ে প্রতারিত করার ঘটনা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More