রণক্ষেত্র নদিয়ার গয়েশপুর, বোমার ঘায়ে জখম বিজেপি কর্মী, বাঁশ-লাঠি নিয়ে রাস্তা অবরোধ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অশান্তির সূত্রপাত শুক্রবার রাত থেকেই। তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে উত্তপ্ত ছিল নদিয়ার গয়েশপুর এলাকা। শনিবার সকালে ভোট শুরুর পর থেকে অশান্তি সপ্তমে চড়ে। কোথাও বুথে ভোটারদের মারধর করার অভিযোগ ওঠে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে, আবার কোথাও বুথ লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। বোমার ঘায়ে গুরুতর জখম এক বিজেপি কর্মী। ভর্তি হাসপাতালে। এলাকায় উত্তেজনা থামাতে নামানো হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

কল্যাণী বিধানসভার গয়েশপুরের বকুলতলায় সকাল থেকে দফায় দফায় বোমাবাজি হচ্ছে। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, ২৭০ নম্বর বুথে ভোটারদের ঢুকতে বাধা দিচ্ছিল তৃণমূলকর্মীরা। বুথ সভাপতিকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। বেলা গড়াতে অশান্তি আরও বাড়ে। দুপুরে ভোট দিয়ে ফেরার পথে বিজেপি কর্মীদের লক্ষ্য করে পর পর বোমা ছোড়া হয়। বোমার আঘাতে দখম হন দু’জন। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। তেঁতুলতলায় রাস্তা থেকে দুটি তাজা বোমাও উদ্ধার হয়েছে।

জখম বিজেপি কর্মীর নাম চৈতন্য ভট্টাচার্য। তাঁর সারা শরীর বোমার স্প্রিনটার ভরে গেছে। হাত ও পায়ে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরেই স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা ভোটারদের হমকি দিচ্ছিলেন নানাভাবে। ভোট দিতে বারণ করা হচ্ছিল। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কতীরা এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে রেখেছিল। জখম বিজেপি কর্মীর প্রতিবেশীদের দাবি, তৃণমূলের গুন্ডারা কয়েকদিন ধরেই চৈতন্যবাবুকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছিল। তাঁর বাড়ির কাছে বোমাও ছোড়া হয়। কিন্তু এর পরেও ভোট দিতে যান তিনি। আর ফেরার পথেই হামলা হয়।

অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে ইতিমধ্যেই বিক্ষোভ শুরু করেছেন এলাকার বিজেপি কর্মীরা। লাঠি-বাঁশ নিয়ে রাস্তা আটকে অবরোধ চলছে। এলাকাবাসীর দাবি, বোমাবাজির ঘটনায় অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মী বাপি দাস। তাঁর নেতৃত্বেই এলাকায় অশান্তি করছে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা। বাপি দাসের বাড়িতে বোমা মজুত করে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ। সূত্রের খবর, তৃণমূল কর্মী বাপি দাসের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায় বিজেপি কর্মীরা। তাঁর গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বাপি দাসকে গ্রেফতার না করলে অবরোধ উঠবে না বলে হুমকি দিয়েছে গেরুয়া শিবির। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী।

এদিকে আবার গয়েশপুরের বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখিয়েছে তৃণমূল কর্মীরা। বিজেপি বহিরাগতদের এলাকায় ঢোকাচ্ছে এমন অভিযোগ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের। পাল্টা সাংসদ শান্তনু ঠাকুর অভিযোগ করেছেন, পুলিশের সামনেই তাঁকে হুমকি দেয় তৃণমূল কর্মীরা। তারা আগ্নেয়াস্ত্র মজুত রেখেছে বলেও দাবি করেন বিজেপি সাংসদ। ঘটনাকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More