মমতার ফোনও ধরছেন না মিহির, কোচবিহারের সভায় ক্ষোভ উগরে দিলেন দিদি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতা প্রলয় পালকে দিদির ফোনের ঘটনা এখনও টাটকা। ২৭ মার্চ প্রথম দফার ভোটের সকালে ওই ফোনের অডিও টেপ তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল বাংলার রাজনীতিতে। সেই ফোন নিয়ে বিজেপি বলেছিল, দিদমণির কী করুণ দশা, শেষে ভিক্ষা করতে হচ্ছে। দু’দিন পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, আমি প্রার্থী হিসেবে ফোন করতেই পারি। তবে রেকর্ড করে ভাইরাল করা ঠিক নয়। দিদি এও বলেছিলেন, তিনি আরও অনেককে ফোন করবেন।

সেই অনেকের তালিকায় কি ছিলেন কোচবিহার দক্ষিণের বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক তথা এবারের ভোটে নাটাবাড়ির বিজেপি প্রার্থী মিহির গোস্বামী? তাঁকে দিদি ফোন করেছিলেন? বুধবার কোচবিহারের সভায় মমতার বক্তব্যেই সেই জল্পনা উস্কে গিয়েছে।

কী বলেছেন দিদি?

নাটাবাড়িতে তৃণমূল প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। জেলার রাজনীতিতে রবি-মিহিরের কোন্দল ছিল সর্বজনবিদিত। এদিন মমতা বলেন, “রবি ঘোষের বিরুদ্ধে লড়াই করছে আমাদের এক গদ্দার। চিরজীবন ট্রান্সপোর্টের চেয়ারম্যান, ডেভলপমেন্টের চেয়ারম্যান, সব করে খেয়ে ইলেকশনের আগে তাঁকে বিজেপি করতে হয়েছে। সে নাকি মহান নেতা। কোনও দিন ঘর থেকে বেরোয় না, একটা ফোন ধরে না। একটা কাজ পর্যন্ত করে না।” এখানেই থামেননি দিদি। একনাগাড়ে তিনি বলে যেতে থাকেন, “রবি ঘোষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গ্যাসে! আরে রবি ঘোষ তো রাত ১২টায় ফোন করলেও ফোন ধরে, সকাল চারটের সময় ফোন করলেও ফোন ধরে। মানুষ বিপদে পড়লে তাঁর ঘরে ছুটে যায়। তুমি কোথায় যাও? তুমি তো আমারই ফোন ধরো না। তো অন্য লোকের ফোন আর কী ধরবে! এত তোমার গরজ, এত অহঙ্কার।”

মমতার এই বক্তব্য শুনে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তাহলে কি এর মধ্যে তিনি মিহিরকে ফোন করেছিলেন? একটা সময় মমতার অত্যন্ত পছন্দের নেতা ছিলেন মিহির। জেলা সফরে গিয়ে রবি ঘোষকে ধমকে দিদিকে বলতে শোনা গিয়েছিল, “অ্যাই রবি, তুই অত মিহিরের সঙ্গে ঝগড়া করবি না। ও খুব ভাল ছেলে।” মমতা যখন যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী তখন থেকে মিহির দিদির সঙ্গে ছিলেন। মিহিরবাবুরা কলকাতার অতীন ঘোষদের বয়সী। যে সময় মিহির বিদ্রোহ চালাচ্ছিলেন, সেই সময় অতীনকে বলতে শোনা গিয়েছিল, “মিহিরের মতো ভাল ছেলে যদি দল ছেড়ে চলে যায়, তাহলে দলের ভাবা উচিত কেন যাচ্ছে।”

কিন্তু এদিন সেই মিহিরের বিরুদ্ধেই ফোন না ধরা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন দিদি। এ ব্যাপারে মিহির গোস্বামীর প্রতিক্রিয়ার জন্য তাঁকে ফোন করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি প্রচারে ব্যস্ত রয়েছেন। জানিয়েছেন পরে প্রতিক্রিয়া দেবেন। সেই প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে এই প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে।

যদিও বিজেপির এক মুখপাত্র বলেন, “দিদিমণি মাস তিনেক আগে একবার জলপাইগুড়ির সভা থেকে বলেছিলেন, আমাদের দিল্লির নেতারা নাকি অনুব্রত মণ্ডলকে ফোন করেছেন। কিন্তু এখন তো উনি নিজেই ফোন করে বেড়াচ্ছেন একে তাকে। কেউ ওঁর ফোন তুলছেন না। কী লজ্জা কী লজ্জা!”

কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রে এবার তৃণমূল প্রার্থী করেছে বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মনকে। তার বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী সুকুমার রায়। এদিন মমতা তাঁকেও নিশানা করেন। বলেন, “আমি শুনলাম বিনয়ের বিরুদ্ধে যে দাঁড়িয়েছে সে নাকি ২০১৬ সালে জেলে ছিল। মার্ডার কেসে! তাকে বিজেপি প্রার্থী করে দিয়েছে।”

এরও প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিজেপি। রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, “দিদিমণির মাথা খারাপ হয়ে গেছে। উনি পাঁচ বছর আগের কথা ভুলে যাচ্ছেন। ২০১৬-র ভোটে উনিই কামারহাটি থেকে মদন মিত্রকে প্রার্থী করেছিলেন। তখন মদন জেলে ছিলেন। গরিব মানুষের টাকা লুঠ করে। বড় বড় কথা বলার আগে আয়নায় নিজের মুখটা দেখুন।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More