তৃণমূল প্রার্থীকে চ্যালাকাঠ দিয়ে মারধরের অভিযোগ, আক্রান্ত বিজেপি কর্মীরাও, ফুঁসছে খানাকুল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্ষোভের পারদ চড়ছে হুগলির খানাকুলে। সকাল থেকে দফায় দফায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের খবর সামনে আসছে।

খানাকুলের চিংড়া মালঞ্চ এলাকার তৃণমূল প্রার্থী মুন্সি নজিবুল করিম ও তাঁর এজেন্টকে ভোট দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, আজ সকালে ভোট দিতে যাওয়ার সময় তৃণমূল প্রার্থীর রাস্তা আটকে দাঁড়ায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। তুমুল ঝামেলা শুরু হয়। নজিবুলকে চ্যালাকাঠ দিয়ে রাস্তার মাঝেই পেটানো হয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের।

ঘটনার সূত্রপাত এদিন সকাল ১১টা নাগাদ। শাসক দলের দাবি, বুথে বিজেপি কর্মীরা ভোটদানে বাধা দিচ্ছিল। সে খবর পেয়ে পৌঁছন তৃণমূল প্রার্থী মুন্সি নজিবুল করিম। তাঁকে দেখেই ঝামেলা শুরু করে দেয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। অভিযোগ, তৃণমূল এজেন্টকে বুথ থেকে বের করে দেওয়া হয়। তার প্রতিবাদ করলেই বাঁশ, লাঠি দিয়ে মারতে শুরু করে বিজেপি কর্মীরা। নজিবুল জানিয়েছেন, তাঁর সারা শরীরে জখম রয়েছে, জামাকাপড় ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে।

ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, এলাকায় শান্তিপূর্ণ ভোট হচ্ছিল। তৃণমূল কর্মীরা বুথে ঢুকে অশান্তি বাঁধানোর চেষ্টা করছিল। তখন তাদের বাধা দেওয়া হয়। তৃণমূল প্রার্থীকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে গেরুয়া শিবির।

সকাল থেকেই খানাকুলের বুথে অশান্তি চলছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। এলাকায় যথেষ্ট উত্তেজনা রয়েছে। তৃণমূল প্রার্থীর অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরা বুথে ভোট দিতে বাধা দিচ্ছে, এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে তিনি অনেকবার অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু লাভ হয়নি। তাঁর দাবি, সঠিক সময়ে বাহিনী পদক্ষেপ নিলে বুথে তাঁকে আসতে হত না। বিজেপি কর্মীরা তাঁকে বেধড়ক মেরেছে বলে অভিযোগ করেছেন নজিবুল। জেলা প্রশাসনকে ঘটনার রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে নির্বাচন কমিশন।

অন্যদিকে, বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-র স্ত্রী তৃণমূল প্রার্থী সুজাতা মণ্ডলকে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। মহল্লাপাড়ার ২৬৩ নম্বর বুথে সুজাতাদেবীর ওপর হামলার চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের।

খানাকুলে যখন অশান্তি চলছে, তখন গোঘাটেও উত্তেজনা চরমে। সূত্রের খবর, গোঘাট বিধানসভার শ্যামবাজার বিবেকানন্দ প্রাথমিক স্কুলে পোলিং এজেন্ট বসানো নিয়ে তুমুল অশান্তি চলছে সকাল থেকেই। ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পরে বিভিন্ন দলের পোলিং এজেন্টরা ভোটকেন্দ্রে এলে ঝামেলা বেঁধে যায়। বিজেপির অভিযোগ, তাদের পোলিং এজেন্টকে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। বুথ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের আরও অভিযোগ, তাদের পোলিং এজেন্ট সহ তিনজন কর্মীকে বাঁশ দিয়ে মেরেছে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। এমনকি জখমদের হাসপাতালে নিয়ে যেতেও বাধা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে উভয় পক্ষেই ঝামেলা শুরু হয়ে গিয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে পুলিশ।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More