ভাস্করের মান ভাঙাতে শ্রীরামপুর ছুটলেন যোগীর ডেপুটি, গলে জল বিজেপি নেতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: তিনি একুশ বছর ধরে বিজেপি করছেন। যখন গেরুয়া শিবিরের পার্টি অফিস খোলার লোক ছিল না তখন থেকে তিনি দলের একনিষ্ঠ। সেই তিনিই বিজেপির রাজ্য কমিটির নেতা তথা হুগলির পর্যবেক্ষক ভাস্কর ভট্টাচার্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরেই বেঁকে বসেছিলেন। নিজের নাম তালিকায় না থাকায় দিলীপ ঘোষকে চিঠি লিখে জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি আর দলে থাকছেন না।

ভোটের মুখে দীর্ঘদিনের নেতার মান ভাঙাতে তাই বুধবার শ্রীরামপুর ছুটলেন উত্তরপ্রদেশের উপ মুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য। সঙ্গে ছিলেন জেলা সভাপতি শ্যামল বসুও।

প্রার্থী ঘোষণার পর বিভিন্ন জায়গায় ক্ষোভ দেখা যায় বিজেপির পুরোনো কর্মীদের মধ্যে। সদ্য তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়ে টিকিট পেয়েছেন উত্তরপাড়ার প্রবীর ঘোষাল, সিঙ্গুরের রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য, সপ্তগ্রামের দেবব্রত বিশ্বাসরা। এই সব জায়গায় কর্মীদের ক্ষোভ বিক্ষোভ মারাত্মক আকার নেয়। কেউ কেউ নির্দল হয়ে ভোটে দাঁড়াবার সিদ্ধান্ত নেন। তারপরেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামে বিজেপি নেতৃত্ব। প্রথমে উত্তরপাড়ার কৃষ্ণা ভট্টাচার্যকে তাঁর বাড়িতে গিয়ে মান ভাঙাতে হয় রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে। এদিন ছিল ভাস্করবাবুর পালা।

ভাস্করবাবুর সঙ্গে দেখা করার পর কেশবপ্রসাদ মৌর্য্য জানান, “ভাস্করদা আমাদের পুরনো নেতা। অনেক সময় এমন হয় যা চাওয়া হয় তা মেলে না। মান অভিমান থাকতে পারে। অনেক সময় আমরা লোকসভা, বিধানসভায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অপেক্ষা করি। কিন্তু তা সব সময় হয়না। তবে দলের নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের উপর ভরসা করতে হয়।”

ভাস্কর ভট্টাচার্য বলেন, “কেশবজির মতো নেতা আমার বাড়িতে এসে যখন বললেন তখন আমি তাঁদের সঙ্গেই আছি। আমার আর কী বলার থাকতে পারে। সাময়িক একটা অভিমান হয়েছিল। দলের প্রার্থী না করা নিয়ে তার ক্ষোভ যে সঠিক ছিল তা নেতৃত্ব মেনে নিয়েছে।” কেশব মৌর্য্য বেরিয়ে যাওয়ার পর জেলা সভাপতি শ্যামল বোসের সঙ্গে দলের কাজে বেরিয়ে যান ভাস্কর ভট্টাচার্য।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More