রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৭

নেতাদের নাম না নিতে চাপ দিয়েছে ‘সিট’: সিবিআইকে কুণাল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিটফান্ড কাণ্ডে বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি-র অফিসাররা কোনও রাজনৈতিক নেতার নাম না নেওয়ার জন্য তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি করেছে বলে সিবিআইকে জানাচ্ছেন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘোষ। সিবিআই সূত্রে আরও দাবি, শিলংয়ে সিবিআই অফিসারদের কাছে তিনি আরও জানিয়েছেন, এসআইটি-র অন্যতম সদস্য ও কলকাতার বর্তমান পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার তদন্তের ব্যাপারে খুব নিরপেক্ষতা দেখাননি। কুণাল যে সব নাম ও নথিপত্র রাজীব কুমারের হাতে তুলে দিয়েছিলেন, সেগুলি খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়নি বলে কুণালের অভিযোগ।

এ দিকে আজ সোমবার শিলংয়ে সিবিআই দফতরে ফের কলকাতার রাজীব কুমার ও কুণাল ঘোষকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতে পারে কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি। সিবিআই সূত্রের দাবি, শনিবার ও রবিবার রাজীব কুমারকে জেরা করে তাঁরা খুব সন্তুষ্ট তা নয়। বরং চিটফান্ড কাণ্ডের তদন্তে তিনি সক্রিয় ভাবে যুক্ত ছিলেন না বলেই নাকি তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় বারবার জানিয়েছেন রাজীববাবু। সিবিআইয়ের ওই সূত্র জানাচ্ছে, রাজীববাবু তাঁদের জানিয়েছেন, চিটফান্ড কাণ্ডের তদন্তে স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিং টিম তথা এসআইটি গঠন করা ছিল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। তিনি এসআইটি-র গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন ঠিকই, কিন্তু যাবতীয় তদন্ত থানা স্তরে হয়েছে। তদন্তে খুবই পারদর্শিতার সঙ্গে কাজ করেছিলেন তৎকালীন বিধাননগর কমিশনারেটের গোয়েন্দা প্রধান অর্ণব ঘোষ। তা ছাড়া তাঁর উর্ধ্বতন কিছু অফিসারেরও ভূমিকা ছিল। তদন্তের সময় অর্ণব তাঁর কাছে পরামর্শ চাইলে তিনি তা মাঝে মধ্যে দিয়েছেন। কিন্তু বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার হিসাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখাই ছিল তাঁর মূল দায়িত্ব। তাতেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন তিনি।
এই পরিস্থিতিতে সিবিআইয়ের তরফে পাল্টা প্রশ্ন করা হয়েছে যে, চিটফান্ড কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের দাবি করে যখন সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছিল, তখন রাজ্য সরকার সর্বোচ্চ আদালতে হলফনামা দিয়ে বলেছিল, এসআইটি খুবই দক্ষতার সঙ্গে তদন্তের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে সিবিআই তদন্তের প্রয়োজন নেই। যার অর্থ একটাই রাজীব কুমারের তত্ত্বাবধানে তদন্তের কাজ ভালোই এগোচ্ছিল।
কলকাতার পুলিশ কমিশনারের পাশাপাশি চিটফান্ড কাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনেক আগেই অর্ণব ঘোষকে নোটিস পাঠিয়েছিল সিবিআই। ওই নোটিস নিয়ে প্রশ্ন তুলে ওই পুলিশ কর্তা হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। তার পর অর্ণবের বিরুদ্ধে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ না করার নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। কাল মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে ফের মামলাটি ওঠার কথা। সিবিআই সূত্র জানাচ্ছে, সুপ্রিম কোর্টের মতোই হাইকোর্ট যদি অর্ণবকে সিবিআইয়ের সঙ্গে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেয়, তা হলে শিগগির তাঁকে ডাকা হবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। কলকাতার পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে তাঁকে মুখোমুখি বসিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার থেকে শিলংয়ে সিবিআই দফতরে চিটফান্ড কাণ্ডের তদন্তসূত্রে কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে শুরু করেছেন সিবিআইয়ের গোয়েন্দারা। প্রথম প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা সিবিআই দফতরে ছিলেন রাজীববাবু। রবিবার আবার রাজীববাবুর পাশাপাশি হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল কুণাল ঘোষকে। রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় রাজীববাবুর সঙ্গে কুণালকে মুখোমুখি বসিয়েছিল সিবিআই। রবিবার প্রায় ১১ ঘণ্টা সিবিআই দফতরে ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার। সোমবার সেই জিজ্ঞাসাবাদ পর্বে ইতি টানা হয় কিনা বা তার মেয়াদ ফের বাড়ানো হয় কিনা এখন সেটাই দেখার।

আরও পড়ুন:

আট ঘণ্টা পার, মুখোমুখি জেরা চলছে রাজীব-কুণালের, সিবিআই দফতরে ঢুকলেন রোজভ্যালির তদন্তকারী অফিসার

আট ঘণ্টা পার, মুখোমুখি জেরা চলছে রাজীব-কুণালের, সিবিআই দফতরে ঢুকলেন রোজভ্যালির তদন্তকারী অফিসার

Shares

Comments are closed.