শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৬

রামপুরহাট আদালত চত্বরে জাঁকিয়ে বসেছে পেল্লায় হনুমান, আঁচড়-কামড়ে রক্তাক্ত ছয়

দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: কখনও বিশ্রি ভাবে দাঁত মুখ খিঁচিয়ে তেড়ে আসছে সে। আবার কখনও গাছের ডাল থেকে দোল খেয়ে মাথায় আলতো চাঁটি। রাগী চোখে তার দিকে তাকালেই মিলছে পেল্লায় কামড়। অথবা হাত ধরে টানাটানি। অতএব হনুমান হইতে সাবধান! রামপুরহাট আদালত চত্বরে পা দিলে এটাই এখন চেনা স্লোগান।

মহকুমা দেওয়ানী ও ফৌজদারী আদালত চার দিন আগেও ছিল বেশ নিরুত্তাপ। কালো কোর্ট পরা আইনজীবীদের ব্যস্ততা আর বিচারপ্রার্থীদের ভিড়ে সরগরম আদালত চত্বর। কিন্তু সোমবার থেকেই চেনা ছবিটা বদলাতে শুরু করে। তার প্রধান কারণ, আদালতে হাজিরা দিয়েছে একটা বড়সড়, সুঠাম হনুমান। তার হাতের বিরাশি সিক্কার চড় খেয়ে মাথা ঘুড়ে গেছে অনেক আইনজীবীরই। আঁচড়ে, কামড়ে জখম জনা ছয়েক। একজন মুহুরির তো কানই কামড়ে ধরে হনুমান। অনেক কষ্টে হনুমানের হাত থেকে রেহাই পেয়ে রক্তাক্ত কান নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।

আদালতের আশপাশের গাছে হনুমানটি নাকি বেশ কয়েকদিন আগেই ঘাঁটি গেড়েছিল, এমনটাই জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। কেন যে তার আদালতটাই বেশি পছন্দ হল সেটা অবশ্য সকলেরই অজানা। তবে নানা বাড়ি দাপিয়ে, বেশ কিছু গাছের ডালপালা ভেঙে হনুমান শেষে বাস জমায় আদালত চত্বরেরই একটি গাছে। সেখান থেকে সরতে সরতে সেরেস্তার টেবিলে, বা দেওয়ালের কার্নিসে আবার কখনও মূল দরজার পাশে। আদালতের ভিতরে কেউ ঢোকার চেষ্টা করলেই চোখ পাকিয়ে তেড়ে আসছে সে। হনুমানের তাণ্ডবে নাজেহাল দশা আইনজীবী থেকে বিচারপ্রার্থীদের।

হনুমান ধরতে আদালত চত্বরে বেশ কয়েকদিন ধরেই কসরত করছেন বনকর্মীরা। তবে তাদের হাত গলেও দিব্যি উপদ্রব চালিয়ে যাচ্ছে সে। আইনজীবী শ্রীকান্ত সিনহার কথায়,”গত তিনদিন ধরে হনুমানের অত্যাচারে আমরা কাজ করতে পারছি না। কখনও আদালতের রাস্তার উপর আবার কখনও সেরেস্তার টেবিলের উপর বসে থাকছে। যাকে পারছে কামড়াচ্ছে। বন দফতরের কর্মীরাও তাকে ধরতে পারছে না।”

বন দফতরের পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে, হনুমানটিকে ধরতে সব রকমের ব্যবস্থা পাকা। খাঁচা পেতে খাবারের লোভ দেখিয়ে তাকে ডেকে আনা হবে। তাতেও কাজ না হলে অন্য ব্যবস্থা করা হবে। এডিএফও বিজন কুমার নাথ বলেছেন, ‘‘সিউড়ি থেকে স্পেশাল টিম আনানো হচ্ছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা হনুমানটিকে ধরতে চাই।’’

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

Shares

Comments are closed.