করোনা কমাতে ভ্যাকসিনের মিশ্রণ! অক্সফোর্ড-ফাইজারের টিকা মিললে কী হবে, ব্যাখ্যা বিজ্ঞানীদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটি ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ না দিয়ে যদি দুটি ভ্যাকসিনের ডোজ মিলিয়ে মিশিয়ে দেওয়া হয় তাহলে কী হবে? বা ধরা যাক, ডোজ অদলবদল করে দেওয়া হল তাহলে ? আরও সহজ করে বললে, ধরা যাক, আপনাকে প্রথম অক্সফোর্ডের চ্যাডক্স টিকা দেওয়া হল, দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হল ফাইজার ভ্যাকসিনের, তাহলে কী রোগ প্রতিরোধ আরও বাড়বে? এই প্রশ্নগুলোই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বিজ্ঞানীদের মাথায়। একটা ভ্যাকসিন যদি ঢাল হয় তাহলে এমন দুটো ভ্যাকসিন জুটি বাঁধলে সুরক্ষা কয়েকগুণ বাড়তে পারে, এমন আশাই করছেন গবেষকরা।

টিকায়-টিকায় মিলমিশের এই ভাবনা কিন্তু প্রথম নয়। ইবোলা ভাইরাস মহামারীর সময়েও এমনভাবে ভ্যাকসিনের ডোজ অদলবদল করেছিলেন গবেষকরা। তাতেই ভাইরাসের মহামারী অনেকটা রোখা গিয়েছিল বলে দাবি। সেই পদ্ধতিই ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে বিশ্বজুড়ে। এখন ভ্যাকসিনের মিশ্রণ তৈরি করা তো আর অত সহজ নয়, এক একটি কোম্পানি তাদের ভ্যাকসিন এক একরকম প্রযুক্তিতে বানিয়েছে। কেউ ডিএনএ প্রযুক্তিতে ভ্যাকসিন তৈরি করেছে, কারও ভ্যাকসিন নিষ্ক্রিয় অ্যাডেনোভাইরাস দিয়ে তৈরি, আবার কেউ বার্তাবহ বা মেসেঞ্জার আরএনএ (mRNA) দিয়ে ভ্যাকসিন তৈরি করেছে। কাজেই ভ্যাকসিনের ডোজের এই অদলবদলেরও একটা বৈজ্ঞানীক পদ্ধতি আছে। সে নিয়ে বিস্তারিত বললেন ভাইরোলজিস্টরা।

Prime-Boost Vaccination: Impact on the HIV-1 Vaccine Field - ScienceDirect
এইচআইভি ভ্যাকসিনের মিশ্রণ–প্রাইম-বুস্ট

ভ্যাকসিনের এই মিশ্রণকে বলা হয় ‘হেটেরোলোগাস প্রাইম-বুস্ট’। গবেষকরা বলেন, একটা ভ্যাকসিনে রোগ সারানো না গেলে, দুটি ভ্যাকসিনের ডোজ মিলিয়ে দিলে তাতে কাজ হয় বেশি। যেমন ইবোলা মহামারীর সময় মানুষের শরীরে সর্দি-কাশির অ্যাডেনোভাইরাস দিয়ে এমন ভ্যাকসিন মিশ্রণ তৈরি করা হয়েছিল। Ad5 অ্যাডোনাভাইরাসের মধ্যে সংক্রামক ইবোলার স্ট্রেন পুরে প্রথম ডোজ বানিয়েছিলেন গবেষকরা, দ্বিতীয় ডোজ বানানো হয়েছিল  Ad26 অ্যাডেনোভাইরাস দিয়ে। এই দুটি ডোজ অদলবদল করে শরীরে ইনজেক্ট করার পরে দেখা গিয়েছিল ভাইরাস-প্রতিরোধী অ্যান্টিবডির পরিমাণ বেড়েছে। ইমিউন সিস্টেমও আরও শক্তপোক্ত হয়েছে।

এই প্রক্রিয়া ফিরিয়ে এনে এখন অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রেজেনেকার ডিএনএ টিকা ও ফাইজার-বায়োএনটেকের আরএনএ টিকার মিশ্রণ তৈরি করার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। এই হেটেরোলোগাস প্রাইম-বুস্টের ফায়দা অনেক। প্রথমত, ফাইজার টিকার কাজ হল শরীরে ঢুকে করোনার স্পাইকের মতো প্রোটিন তৈরি করা। সেই প্রোটিন বাবল কোষে ছড়ালেই তার প্রতিরোধে ইমিউন কোষ তথা বি-কোষ ও টি-কোষ সক্রিয় হয়ে ইমিউনিটি তৈরি করবে। দ্বিতীয়ত, অক্সফোর্ডের টিকা হল অ্যাডেনোভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করে তৈরি ভেক্টর ভ্যাকসিন। এই টিকার ডোজ শরীরে ঢুকে অ্যাডাপটিভ ইমিউন রেসপন্স তৈরি করবে। কাজেইএকটি হবে প্রাইমারি ডোজ, অন্যটি বুস্টিং ডোজ। এই দুটি ডোজ যদি পর্যায়ক্রমে শরীরে ইনজেক্ট করা যায়, তাহলে দ্বিগুণ সুরক্ষা পাওয়া যাবে বলে গবেষকদের আশা।

Jump-starting the immune system: prime–boosting comes of age: Trends in Immunology
প্রাইমারি ডোজ ও বুস্টিং ডোজ মিলে গেলে রোগ প্রতিরোধ আরও বাড়বে বলে আশা

ফাইজার ও অক্সফোর্ডের টিকার মিশ্রণের ট্রায়াল হয়েছে সম্প্রতি। এই ট্রায়ালের নাম ‘কম-কভ’ (Com-Cov) । স্বেচ্ছাসেবকদের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে এই ট্রায়ালের ফলাফল বিশ্লেষণ করছেন গবেষকরা।

ভ্যাকসিন মিশ্রণের জন্য রাশিয়ার গ্যামেলিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সঙ্গেও কথাবার্তা চলছে অ্যাস্ট্রজেনেকার। জানা গেছে, রাশিয়ার স্পুটনিক ভি টিকা ও অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকার ডোজের মিশ্রণ হতে পারে। সেই হেটেরোলোগাস বুস্ট কেমন হবে তার ট্রায়ালও শুরু হবে খুব তাড়াতাড়ি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More