‘সীমান্তে শত্রু সেনার গুলির মুখেই আত্মবিশ্বাস খুঁজে পাই’, লিঙ্গবৈষম্যের ধারণা ভেঙেছেন বীরাঙ্গনা মেজর স্নেহা

“নিয়ন্ত্রণরেখার কাছাকাছি এলাকা মানেই প্রতি মুহূর্তে প্রাণ সংশয়ের সম্ভাবনা। মাঝ রাতেও সীমান্তের ওপার থেকে উড়ে এসেছে গোলাগুলি", অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন মেজর স্নেহা চৌধুরী।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শত্রু সেনা যখন নিয়ন্ত্রণরেখায় নির্বিচারে গুলি চালায়, বুলেট ক্ষতবিক্ষত করে ভারতীয় জওয়ানদের, তখন সেখানে নারী-পুরুষের ভেদ থাকে না, বলেছেন অকুতোভয় মেজর স্নেহা চৌধুরী। দেশের সুরক্ষার প্রশ্নে লিঙ্গের ভেদ নয় বরং সাহস আর উপস্থিত বুদ্ধির প্রয়োজন হয়, বন্দুক তুলে আক্রমণকারীর গুলির মুখে বুক চিতিয়ে যিনি দাঁড়াতে পারেন তিনিই দেশের রক্ষক। আর এখানেই ভারতীয় সেনার সাফল্য, বলেছেন স্নেহা।

বর্তমানে মাদ্রাজে পোস্টিং মেজর স্নেহা চৌধুরীর। দীর্ঘ সময় ছিলেন জম্মু-কাশ্মীরে। নিয়ন্ত্রণরেখার কাছাকাছি এলাকাতেই ছিল পোস্টিং। মেজর স্নেহা বলেছেন, অশান্ত কাশ্মীরে রোজই গোলাগুলি চলত। জঙ্গিদের খোঁজে রাতবিরেতে তল্লাশি অভিযান চালাতে হয়েছে গ্রামে গ্রামে, জঙ্গল ঘেরা উপত্যকায়। এমন অনেক দুঃসাহসী অভিযানের অভিজ্ঞতা রয়েছে মেজর স্নেহার।

“নিয়ন্ত্রণরেখার কাছাকাছি এলাকা মানেই প্রতি মুহূর্তে প্রাণ সংশয়ের সম্ভাবনা। মাঝ রাতেও সীমান্তের ওপার থেকে উড়ে এসেছে গোলাগুলি। সেনা ছাউনি লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে জঙ্গিরা। এসব কিছুই আমার রক্ত গরম করে দিত। অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী লাগত,” নারী হিসেবে নয় নিজেকে দেশরক্ষক হিসেবেই ভেবেছেন মেজর স্নেহা। বলেছেন, ভারতীয় বাহিনীতে কখনও নীতি বা নিয়মের ব্যতিক্রম দেখেননি। সেনা ছাউনিতেও পুরুষ-মহিলার ফারাক নেই। প্রয়োজনে সকলকেই হাতে অস্ত্র তুলে নিতে হবে। মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে ছুটে যেতে হবে শত্রুর গুলির মুখে। স্নেহার কথায়, সেনা ইউনিফর্ম পরে হাতে অস্ত্র নিয়ে যখন দেশের সুরক্ষার জন্য ঢাল হয়ে দাঁড়াতে হয়, তখন যে অনুভূতি হয় সেটাই জওয়ানদের গর্ব। সেখানে নারী-পুরুষের বিশেষ কোনও ফারাক নেই।

রাজস্থানে রয়েছেন। বাবা ভারতীয় সেনায় রয়েছেন। সেই সূত্রে ছোট থেকেই গোটা দেশ ঘোরা হয়ে গেছে। পড়াশোনা কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় থেকে। গ্রেটার নয়ডার আইটিএস ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে ভারতীয় সেনায় যোগ দেন ২০১৪ সালে। জম্মু-কাশ্মীরের আখনুরে প্লাটুন কম্যান্ডার হিসেবে কাজ করেছেন। হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালায় পোস্টেট ছিলেন অনেকদিন। সেখানে অ্যাসিস্টান্ট গ্যারিসন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন। পরে সেখান থেকে বেঙ্গালুরুতে তাঁর পোস্টিং হয়। জাতীয় স্তরে বাস্কেটবল খেলেছেন স্নেহা।

গত বছর অগস্টে বন্যা বিধ্বস্ত বেলাগাভিতে বহু মানুষকে উদ্ধার করেছেন মেজর স্নেহা। বলেছেন, সেনার উদ্ধারকারী দলে সকলেই ছিলেন সমান। দুর্গতদের বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন সকলে। মহিলা-পুরুষের বিচার হয়নি। লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাধুরী কানিৎকারের মতো তিনিও লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদের জন্য আবেদন করেছেন। জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্ট ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে। ভারতীয় বাহিনীতে পুরুষরা যে কাজ করতে পারেন মহিলারা কোনও অংশে কম যান না। অস্ত্রচালনা হোক, সেনা নেতৃত্ব হোক বা দেশরক্ষার প্রশ্নে পুরুষ-মহিলার ভেদ হয়না। সেখানে সকলেই দেশসেবক, দেশের রক্ষক। শত্রু ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়ে দেশ বাঁচানোই সকলের মূল লক্ষ্য।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More