অন্তর্বাসে সপ্রতিভ বৃদ্ধা, বললেন,’ষাটের পরেও আনন্দে কাটানো যায় জীবন!’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংখ্যায় তাঁর বয়স ৭৯ বছর। তবে আশির দোরগোড়াতে দাঁড়িয়েও তিনি যেন দুষ্টু মিষ্টি এক ষোড়শীর মতোই। মনের দিক থেকে যুবতী তো বটেই, হাবেভাবে এবং নিজেকে সাহসের সঙ্গে মেলে ধরাতেও। এই বয়সেও লাস্য একটুও কমেনি। বরং ডার্ক গ্রে রঙের লেসের লঞ্জেরি পরে দিব্য হাঁটলেন র‍্যাম্পে। সাবলীলভাবে করেছেন ফটোশ্যুটও। নিজের বানানো লনজেরি কালেকশনের জন্য মডেল হয়েছেন ব্রাজিলের এই বৃদ্ধা। নাম হেলেনা স্কারজেল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ব্রাজিলের এই বৃদ্ধার বিকিনি শ্যুটের ছবি। একই ছবিতে রয়েছেন দুই তরুণীও। তবে অমল আলো একাই কেড়ে নিয়েছে হেলেনা। ক্যামেরার সামনে লনজেরি পরে তাঁর কমফোর্ট লেভেল দেখে অবাক ফটোগ্রাফারও। ফ্ল্যাশের ঝলকানির সঙ্গে ফটোগ্রাফার সাবোরিদোর মুখ থেকে বেরিয়েছে একটা শব্দ ‘মার্ভেলাস, অ্যামেজিং, আউটস্ট্যান্ডিং’।

দীর্ঘদিন একটি ফ্যাব্রিক কোম্পানিতে চাকরি করেছে হেলেনা। ব্রাজিলের সাও পাওলোতে রয়েছে বিলাসবহুল ম্যানসন। দু’বার বিয়েও করেছেন তিনি। দুই সন্তান, পাঁচ নাতি-নাতনি নিয়ে ভরা সংসার তাঁর। তবে সব দায়িত্ব সামলেও কাজ থেকে অবসর নিতে একেবারেই রাজি নন হেলেনা। বরং তাঁর লক্ষ্য ছিল নতুন কিছু করার। বিশেষ করে ৬০-এর পরবর্তী মহিলাদের জন্য একদম অন্য কিছু করতে চেয়েছিলেন হেলেনা। আর সেই মতোই বছর দুয়েক আগে লনজেরি ডিজাইন করা শুরু করেন।

সেক্সি স্টাইল থেকে ভাইব্রেন্ট কালার, এটাই হেলেনার ডিজাইন করা লনজেরির ইউএসপি। নিত্যনতুন সেক্সি ডিজাইন নিজের কালেকশনে ব্যবহার করেই থাকেন হেলেনা। তাঁর কথায়, “৬০ কিংবা ৭০-এর পরেই মহিলারা কেমন যেন গুটিয়ে যান। নিজেরাই ভাবতে পারেন না যে এরপরেও একটা জীবন রয়েছে। যেটা সুন্দর হতে পারে। আনন্দের হতে পারে। সর্বোপরি লাস্যময় হতে পারে। কারণ ৬০ পেরোলেই জীবনের সমস্ত উদ্দীপনা শেষ হয়ে যায় না! কীভাবে নিজেকে প্রেজেন্ট করবেন, ধরে রাখবেন সেটাই আসল।“

এই ভাবনা থেকেই লনজেরি বানানো শুরু করেন হেলেনা। তারপর একদিন বুঝতে পারেন যে নিজের ডিজাইন করা লনজেরির জন্য বেস্ট মডেল তিনিই। প্রকাশ্যে খোলামেলা লুকে আসতে কোনও অসুবিধে নেই তাঁর। বরং লাস্যময়ী ভাবে নিজেকে প্রেজেন্ট করতেই সপ্রতিভ তিনি। যেমন ভাবা তেমন কাজ। দুই তরুণী মডেলের সঙ্গে ঝটপট ফটোশ্যুটও সেরে ফেলেছেন তিনি। ব্রাজিলের রেকো লনজেরির সঙ্গে কাজ করেছেন হেলেনা। তাঁর হাত ধরেই আগামীদিনে বাজারে আসবে আরও অনেক সেক্সি ডিজাইনের লনজেরি।

তবে ফটোশ্যুটে লেসের সেক্সি লনজেরি পড়লেও ৭৯-তে এসে হেলেনা যেমন রয়েছেন সেভাবেই নিজেকে মেলে ধরেছেন। চামড়া সামান্য কুঁচকেছে। বয়স হয়েছে বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু তাতে কী! সপ্রতিভ হেলেনা এখনও টেক্কা দিতে পারেন যে কাউকে। হেলেনার কথায়, “বয়স নিয়ে আমি কোনওদিন ভাবিনি। ওই ব্যাপারটাকে পাত্তাই দিতাম না। আমি ভাগ্যবান যে জিমেও যেতে হয় না। তবে একটা সময়ের পর বুঝেছি যে বয়সটা আর ৩৩ নেই। তাই ফটোশ্যুটের আগে মেকআপ দিয়ে রিঙ্কলস ঢাকতে চাইনি। বরং আমি যেরকম সেভাবেই সকলের সামনে আসতে চেয়েছি। এতে আমার কোনও সমস্যা নেই।“

নেট দুনিয়ায় এখন ট্রেন্ডিং হেলেনা। ইনস্টাগ্রামে নিজের লনজেরি শ্যুটের ফটো শেয়ারের পর থেকেই কমেন্ট বক্সে উপচে পড়ছে শুভেচ্ছা। কেউ বলছেন, “ইউ আর দ্য বেস্ট”, তো কারও কথায় “আপনি সব পারেন। আপনিই করে দেখালেন”। ৮০-র কোঠায় পৌঁছে হেলেনার সাহসিকতার জন্য তাঁকে কুর্নিশ জানিয়েছেন নেটিজেনরা। প্রায় সকলেই বলছেন, “রিস্ক নিয়েছেন আপনি। কঠিন চ্যালেঞ্জও বটে। তবে আপনি করে দেখালেন। উৎসাহ থেকে স্পিরিট সবেতেই আপনি একশ তে একশ।“ আর হেলেনা বলছেন, সবাই তৈরি থাকুন। আগামী ২০ থেকে ৩০ বছর এমন ঠাকুমা অনেক আসবেন, যাঁরা তাক লাগিয়ে দেবেন আপনাদের। তাজ্জব বনে যাবেন সবাই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More